বাংলাদেশ, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ - ১০:১১ : এএম


Tweet

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১২ ১৯:২৩:৩৪ পড়তে সময় লাগবে 2 মিনিট

পটিয়ায় কথিত জ্বিনের বাদশা আটক : ৪০ সেকেন্ডে পকেট মারল পুলিশের!

পটিয়ায় কথিত জ্বিনের বাদশা আটক : ৪০ সেকেন্ডে পকেট মারল পুলিশের!

সনজয় সেন.পটিয়া প্রতিনিধি : মাত্র ৪০ সেকেন্ডে পটিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাদিম মাহমুদের পকেট মেরে ৫শ টাকা হাতিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এক পকেটমার! সেই দুরদর্শী পকেটমার নুরুল আমিন (৪৫) আবার এলাকায় জ্বিনের বাদশা নামেও বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন।

ধরার পর নুরুল আমিনের বাহাদুরী গল্পে জানায় আমি মানুষের পকেট থেকে নগদে নিই। আর এতে আমার বিশেষ বাহাদুরি আছে। আর ধরা পড়লে নগদে মার খাই পাবলিকের। কিন্তু সে আসলে জ্বিনের বাদশা নই। এভাবে পুলিশকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা এলাকার মৃত আমির হোসেনর পুত্র জ্বিনের বাদশা ও পকেটমার নুরুল আমিন।

এর আগে গত শনিবার বিকেলে পটিয়া থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কথিত জ্বিনের বাদশা খ্যাত পকেটমার নুরুল আমিন।

জানা যায়, গত ৫ মে (রবিবার) জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী আবদুস শুক্কুরের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগমের (৩৬) কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণসহ প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। গত শনিবার দুপুরে প্রবাসীর এক আত্মীয় চন্দনাইশ জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় জ্বিনের বাদশা দলের এক সদস্যকে চিনতে পারে।

এ সময় কয়েকজন মিলে তাকে আটক করে পুলিশকে সোর্পদ করে। পরে চন্দনাইশ থানা পুলিশ পটিয়া থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করে। পটিয়া থানায় আনার পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় সে জ্বিনের বাদশা বা ওই দলের কেউ নয় বলে জানান। জিজ্ঞাসাবাদে সে একজন পকেটমার বলে স্বীকার করে। তবে কেউ কেউ তাকে জ্বিনের বাদশা নামে ডাকে। তার প্রকৃত নাম নুরুল আমিন।

পটিয়া থানায় সেকেন্ড অফিসার এসআই নাদিম মাহমুদের কাছে সে দক্ষিণ জেলায় কয়েকজন পকেট মারের তথ্য দেয়। থানায় সে কিভাবে গাড়িতে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা চুরি করে তা দেখান। সে নাদিম মাহমুদের পকেট থেকে ৪০ সেকেন্ড একটি ৫শ টাকার নোট চুরি করে দেখায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আমিন পটিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ছিদ্দিকীয়া আবাসিক এলাকায় থাকত। গত রবিবার জ্বিনের বাদশা সেজে আমিন বিভিন্ন মহিলা ও পুরুষের কাছ থেকে স্বর্ণ ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ কারণে পটিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোফরান রানা গত ৬ মে (সোমবার) প্রথমে তাকে আটক করে পটিয়া থানা পুলিশের কাছে র্সোপদ করে। পরে পাওনাদারদের টাকা ও স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করায় তাকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।

পটিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাদিম মাহমুদ বলেন, জ্বিনের বাদশা নুরুল আমিনকে আটকের পর পটিয়া থানায় আনা হলে সে নিজেকে পকেটমার হিসেবে দাবি করেন। পকেটমার আমিন ছাড়াও চন্দনাইশ এলাকার আলমগীর ও পটিয়ার বুগাইয়্যা নামের আরো একজন রয়েছে। তারা চট্টগ্রাম-কক্সাবাজার আরকান মহা সড়কের বিভিন্ন পরিবহন ওঠে যাত্রীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে দুই আঙ্গুলে টাকা নেন। তার বিরুদ্ধে প্রবাসীর ছেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বিএম/রাজীব..

শেয়ার করুন :

লাইভ টিভি•LIVE