বাংলাদেশ, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ - ১০:৪৫ : এএম


Tweet

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১২ ০০:১১:৫৯ পড়তে সময় লাগবে 3 মিনিট

রেলওয়ের মাস্টারপ্লান : ১৮০০ কি.মি. নতুন রেলপথ নির্মাণ : সিঙ্গেল লাইন হবে ডাবল : মিটারগেজ হবে ডুয়েলগেজ

রেলওয়ের মাস্টারপ্লান : ১৮০০ কি.মি. নতুন রেলপথ নির্মাণ : সিঙ্গেল লাইন হবে ডাবল : মিটারগেজ হবে ডুয়েলগেজ

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিকল্পিত উন্নয়নের (মাস্টারপ্লান) আওতায় দেশের সব জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এ জন্য নতুন করে ১৮শ’ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে।

পাশাপাশি সব সিঙ্গেল লাইন রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে মিটারগেজ রেলপথকে।

৩০ বছর মেয়াদি (২০১৬-২০৪৫) এ মাস্টারপ্লান ৬টি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ ধাপেই নতুন রেলপথ নির্মাণসহ বেশির ভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

রেলওয়ের মাস্টারপ্লান-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাস্টারপ্লানের প্রথম ধাপে (২০১৬-২০২০) নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে ৪৩৮ দশমিক ৫২ কিলোমিটার।

এর মধ্যে রয়েছে ভাঙ্গা-বরিশাল-পায়রা ২১৩ কিলোমিটার, আখাউড়া-আগরতলা ১০ দশমিক শূন্য এক কিলোমিটার, বগুড়া-জামতৈল ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার, চিলাহাটী-চিলাহাটী বর্ডার ৭ কিলোমিটার, জালানীহাট-চুয়েট-কাপ্তাই ৪২ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল সংযোগ রেলপথ ১৬ কিলোমিটার, দর্শনা-মেহেরপুর-মুজিবনগর ২৬ কিলোমিটার, ফেনী-মিরেরসরাই ইকোনমিক জোন সংযোগ ৩০ কিলোমিটার ও জামালপুর ইকোনমিক জোন সংযোগ রেলপথ ৮ কিলোমিটার।

দ্বিতীয় ধাপে (২০২১-২০২৫) নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে ৫২৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড রেলপথ ২৩০ কিলোমিটার, ঢাকা শহরের চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথ ১০০ কিলোমিটার, কুষ্টিয়া বাইপাস রেলপথ ১০ কিলোমিটার, ঈশ্বরদী-ইপিজেড সংযোগ রেলপথ ৬ কিলোমিটার, মহেশখালী ও মাতারবাড়ী সংযোগ রেলপথ ১৮ কিলোমিটার, নাভারণ-সাতক্ষীরা ৮৫ কিলোমিটার রেলপথ, ছাতকবাজার-সুনামগঞ্জ ৩০ কিলোমিটার রেলপথ, সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ ১৫ কিলোমিটার রেলপথ ও জামালপুর-শেরপুর ৩২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ।

তৃতীয় ধাপে (২০২৬-২০৩০) নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে ১৬৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে পায়রা-কুয়াকাটা ২৫ কিলোমিটার, ভৈরব-আবদুলপুর-জামতৈল-কাউনিয়া বাইপাস ২০ কিলোমিটার, টুঙ্গিপাড়া-মংলা-ফকিরহাট ৭০ কিলোমিটার ও পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা ৭০ কিলোমিটার রেলপথ।

চতুর্থ ধাপে (২০৩১-২০৩৫) নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে ৪৮৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-টঙ্গী সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ রেলপথ) ৪০ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম শহরের চার দিকে বৃত্তাকার রেলপথ ১০০ কিলোমিটার, নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি ৬০ কিলোমিটার, হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি ৪০ কিলোমিটার, দোহাজারী-বান্দরবান ২৫ কিলোমিটার, পঞ্চগড়-চিলাহাটি-হাতিয়াবান্ধা ৬০ কিলোমিটার, রোহনপুর-জয়পুরহাট ৮০ কিলোমিটার ও যশোর-মাগুরা-শ্রীপুর-লাঙ্গলবান্ধা-পাংশা ৮০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ।

পঞ্চম ধাপে (২০৩৬-২০৪০) নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে ১৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে জয়দেবপুর-ধামরাই-মানিকগঞ্জ-পাটুরিয়া ৯০ কিলোমিটার রেলপথ ও মধুখালী-মাগুরা-যশোর ৬৫ কিলোমিটার রেলপথ। সব মিলিয়ে পাঁচ পর্বে এক হাজার ৭৬৯ দশমিক ৫২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

মাস্টারপ্লান অনুযায়ী, পাঁচ পর্বে এক হাজার ৬৩৮ দশমিক ৪১ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে।

এর মধ্যে প্রথম পর্বে রূপান্তর করা হবে আখাউড়া-সিলেট ১৭৭ কিলোমিটার, পার্বতীপুর-কাউনিয়া ৫৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার ও সিলেট-ছাতক বাজার ৩৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার।

দ্বিতীয় পর্বে টঙ্গী-ভৈরববাজার ১২৮ কিলোমিটার, ভৈরব-আখাউড়া ৬৬ কিলোমিটার ও লাকসাম-চট্টগ্রাম ১৫৯ দশমিক দুই কিলোমিটার ডাবল লাইন রেলপথকে ডুয়েলগেজ করা হবে। এছাড়া শান্তাহার-বগুড়া ৩৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর ১৪৭ কিলোমিটার, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ১৬ দশমিক এক কিলোমিটার, চট্টগ্রাম-ষোলশহর ১২ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার ও ষোলশহর-দোহাজারী ৪০ দশমিক ৬০ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে।

তৃতীয় পর্বে ভৈরববাজার-ময়মনসিংহ ১১৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার, লাকসাম-চাঁদপুর ৫১ দশমিক ৫২ কিলোমিটার, লাকসাম-নোয়াখালী ৪৯ দশমিক ১১ কিলোমিটার, ষোলশহর-নাজিরহাট ৩০ দশমিক ছয় কিলোমিটার, ফতেয়াবাদ-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দুই দশমিক ১৫ কিলোমিটার এবং বগুড়া-লালমনিরহাট-বোনারপাড়া ও ত্রিমোহনী-বালাশীঘাট ১১৫ দশমিক ২১ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে।

চতুর্থ পর্বে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে জামালপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব ও জামালপুর-বাহাদুরাবাদঘাট ১১৭ দশমিক শূন্য তিন কিলোমিটার, ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ ও শ্যামগঞ্জ-জারিয়া ঝাঞ্ঝাইল ৭০ দশমিক ৬১ কিলোমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা ২৭ কিলোমিটার রেলপথ।

আর পঞ্চম পর্বে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে লালমনিরহাট-বুড়িমাড়ি ও তিস্তা-রমনাবাজার ৮৪ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার রেলপথ।

এ প্রকল্পগুলোর বাইরে তিন ধাপে ডাবল লাইন করা হবে ৯৪৬ কিলোমিটার রেলপথ। এর মধ্যে প্রথম ধাপে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ১৭৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর ১৩৯ দশমিক ১১ কিলোমিটার ও খুলনা-দর্শনা ১২৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার;

দ্বিতীয় ধাপে আবদুলপুর-রাজশাহী ৪০ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার এবং তৃতীয় ধাপে আবদুলপুর-পার্বতীপুর ১০৪ দশমিক ২৪ কিলোমিটার, আখাউড়া-সিলেট ১৭৬ দশমিক ৭২ কিলোমিটার ও ফৌজদারহাট-সিজিপিওয়াই ১২ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল লাইন করা হবে।

এ দিকে নতুন রেলপথ নির্মাণ, ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ ও ডুয়েলগেজে রূপান্তর ছাড়াও প্রথম ধাপে যশোর-বেনাপোল ৩৫ কিলোমিটার ও তৃতীয় ধাপে রূপসা-বাগেরহাট ২৫ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হবে।

এগুলোর পাশাপাশি প্রথম পর্বে ধীরাশ্রম, উত্তরা ইপিজেড, মংলা ও ঈশ্বরদীতে চারটি এবং তৃতীয় ধাপে দর্শনা ও শাহবাজপুরে দুইটি আইসিডি (অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো) নির্মাণ করা হবে।

রেলপথের পাশাপাশি ছয়টি নতুন ওয়ার্কশপ ও ছয়টি নতুন রেল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

ওয়ার্কশপগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ, নায়ারণগঞ্জ ডেমু ওয়ার্কশপ, সৈয়দপুরে নতুন ইউনিট, চট্টগ্রাম লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ, রাজবাড়ী লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ এবং ময়মনসিংহ ক্যারেজ ও ওয়াগন ওয়ার্কশপ। আর যমুনা রেল সেতু, কর্ণফুলী রেল সেতু, তিস্তা রেল সেতু, হার্ডিঞ্জ রেল সেতু, মৌকুরী-ঢালারচর পয়েন্টে পদ্মা রেল সেতু এবং ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ ঘাট রেল সেতু নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের মাস্টারপ্লানে।

বিএম/রনী/রাজীব

শেয়ার করুন :

লাইভ টিভি•LIVE