চট্টগ্রাম ষ্টেশনে যাত্রী সেবা নিম্নমানের : অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কালোবাজারিতে জড়িত রেল নিরাপত্তা কর্মীকে ধরিয়ে দিলেন সুজন : প্রত্যাহার

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, রেলওয়ের আয়ের সিংহভাগ আসে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে। অথচ এই স্টেশনে যাত্রী সাধারণের সুযোগ সুবিধা খুবই অপ্রতুল। যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত কোন গণশৌচাগার নেই। ওয়েটিং রুম এবং সুপেয়পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নেই কোন পরিকল্পিত নিরাপদ ট্যাক্সি ষ্ট্যান্ড। অপেক্ষামান যাত্রীদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের জায়গা নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল বলা যায়।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এবং সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনসমূহের যাত্রীসাধারনগণ উন্নত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুবর্ণ, সোনার বাংলা, তূর্ণা নিশীতা, উদয়ন এক্সপ্রেস এবং পাহাড়ীকার যাত্রী সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পুরাতন বগি, ছেড়া সিট ও কার্পেট, উৎকট গন্ধ এবং ছাড়পোকার উপস্থিতি ভ্রমন যাত্রাকে বিঘ্নিত করে। সিট ছাড়াওঅহরহ যাত্রীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বাথরুমগুলো প্রায়শই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে থাকে। তাছাড়া সোনার বাংলা ট্রেনে ২৫০ টাকার বিনিময়ে যে খাবার সরবরাহ করা হয় তা বেশীরভাগ যাত্রী সাধারনের অপছন্দ। খাদ্য গ্রহণে বাধ্যবাধকতা যাত্রী সাধারণের প্রতি অবিচারও বটে।

তিনি আন্তঃনগর ট্রেনসমূহে কিছু বিলাসবহুল কোচ সংযোজন করারও আহবান জানান। যাতে সামর্থ্যবান যাত্রী সাধারনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেন ভ্রমন করতে পারেন।

আজ রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ভিআইপি কক্ষে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এ আহবান জানান।

এসময় তিনি আরো বলেন, বিআরটিসি মার্কেট থেকে কোতোয়ালী পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানে টিকেট কালোবাজারি হয়। অথচ ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে যাত্রী সাধারন টিকেট পায়না। নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ ঐ সময় রেলওয়ের একজন নিরাপত্তারক্ষীকে টিকেট কালোবাজারির সময় দেখতে পান এবং এ ব্যাপারে স্টেশন ম্যানেজারকে অবহিত করেন। স্টেশন ম্যানেজার সাথে সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানকে ঐ নিরাপত্তারক্ষীকে প্রত্যাহার করার আদেশ দেন। সুজন যাত্রী সাধারনকে টিকেট কালোবাজারির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান এবং এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে আইন শৃংখলা বাহিনীর শরানপন্ন হওয়ার অনুরোধ জানান।

সুজন বলেন, চট্টগ্রাম দেশের বানিজ্যিক রাজধানী। ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের অবস্থান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আন্তরিকতায় চট্টগ্রাম বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। চট্টগ্রামকে ঘিরেই আগামী দিনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রামকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্ধ দিচ্ছে বর্তমান সরকার।রাজধানী ঢাকার সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে এই ট্রেন।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ম্যানেজার নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মতবিনিময় করতে আসায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, নাগরিক উদ্যোগের প্রতিটি দাবীই জনগুরুত্বপূর্ণ। এসব দাবীগুলো পূরণে সরকার এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত আছেন।

সরকারও রেলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ দিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা চট্টগ্রাম রেল স্টেশনকে একটি আধুনিক রেল স্টেশনে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমাদের প্রয়োজনীয় কর্মকান্ড সম্পাদন করে চলছি। ইতিমধ্যে যাত্রী সাধারণের জন্য বৃহৎ এবং উন্নত দুইটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।সুবর্ণ, সোনার বাংলা, তূর্ণা নিশীতা, উদয়ন এক্সপ্রেস এবং পাহাড়ীকার যাত্রী সাধারণের মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

এছাড়া টিকেট কালোবাজারির বিরুদ্ধে সবসময়ই আমাদের কঠোর অবস্থান আছে। তবে এ ব্যাপারে যাত্রী সাধারনকেও সচেতন হতে হবে। যাত্রী সাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে টিকেট পেতে পারে সেজন্য সরকার নিত্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করছে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেল স্টেশন মাস্টার মাহাবুবুর রহমান খান, হাজী মোঃ ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, হাজী হোসেন কোম্পানী, সাইদুর রহমান চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু, আব্দুল আজিম, নুরুল কবির, মোঃ সেলিম, হাফেজ ওকার উদ্দিন, এজাহারুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন বাহাদুর, মোঃ শাহজাহান, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন, শেখ মামুনুর রশীদ, সমীর মহাজন লিটন, মোঃ সাইফুল্লাহ আনছারী, রাজীব হাসান রাজন, জাহাঙ্গীর আলম, সফি আলম বাদশা, স্বরূপ দত্ত রাজু, হাসান মোঃ মুরাদ, জাইদুল ইসলাম দূর্লভ, রকিবুল আলম সাজ্জী, সাজ্জাদ হোসেন, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, মাহফুজ চৌধুরী, আব্দুল জাহেদ মনি, মোজাম্মেল হক সুমন, শিশির কান্তি বল, আব্দুল মালেক, মোঃ জাবেদ, মনিরুল হক মুন্না, ওবায়দুল কাদের, শাহাদাত হোসেন প্রমূখ।

এর আগে বেলা ১২টায় সুজন ওয়াসার এমডি’র সাথে তাঁর কার্যালয়ে স্বাক্ষাত করেন। ওয়াসার এমডি বারবার আশ্বাস প্রদানের পরও বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহের কোন উন্নতি না হওয়ায় সুজন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জরুরী ভিত্তিতে ওয়াসার ত্রুটিগুলো অপসারণ করে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের আহবান জানান।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজে কোন প্রকার গাফিলতি কিংবা অনিয়ম হলে জনগন কখনো ওয়াসাকে ক্ষমা করবে না। তিনি ওয়াসার ভিতর কোন ভূত লুকিয়ে আছে কিনা তা বের করার জন্য ওয়াসার এমডি’র প্রতি আহবান জানান। ওয়াসার এমডি অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সাথে উপলব্দি করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রকৌশলীগণকে নির্দেশ প্রদান করেন। তাছাড়া যে সকল এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় পানি সরবরাহ করার উদ্যোগ গ্রহনের আশ্বাস প্রদন করেন।

এরপর বেলা ৩ টায় সুজন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল, চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেনের সাথে তাঁর কার্যালয়ে স্বাক্ষাত করেন। এ সময় সুজন হঠাৎ করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পবিত্র রমজান মাস ইবাদত বন্দেগীর মাস। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে বেশীরভাগ বিপনী বিতানে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার ফলে সাধারন গ্রাহকের ইফতার, সেহেরী এবং নামাজের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে জনগন কষ্ট পাচ্ছে।

তিনি বিপনী বিতানগুলোকে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানান। এছাড়া সম্প্রতি কোতোয়ালী এবং হালিশহরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এসব বিষয়ও প্রধান প্রকৌশলীর নজরে আনেন সুজন। প্রধান প্রকৌশলী উপরোক্ত বিষয়ে তাৎক্ষনিক সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমাতে পাথরঘাটা এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি ট্রান্সফরমার স্থাপনে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সহযোগীতা কামনা করেন।

বিএম/রাজীব সেন..