বাংলাদেশ, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ - ৬:৪১ : এএম


Tweet

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-৩১ ২২:৫৪:০০ পড়তে সময় লাগবে 2 মিনিট

আওয়ামী লীগের লালদিঘী বিমুখতা

আওয়ামী লীগের লালদিঘী বিমুখতা

চট্টগ্রাম মেইলঃ একটা সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানগুলোর অপরিহার্য অংশ ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দান, তবে সময়ের বিবর্তনে গত এক বছরে লালদিঘীতে তেমন অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি দলটি।

সর্বশেষ পহেলা মে শ্রমিক লীগ ‘শ্রমিক দিবসের’ প্রোগ্রাম আয়োজন করলেও আগের মত হয়নি জনসমাগম।

বঙ্গবন্ধুর সেই ছয় দফা থেকে শুরু করে সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধূরীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সয়লাব থাকতো লালদিঘীর মাঠ। এমনকি রাজনীতির চরম উত্তেজনার ওয়ান ইলেভেনেও এ মাঠকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে থাকত আওয়ামী লীগ-বিএনপি।

প্রোগ্রাম, পাল্টা প্রোগ্রাম, ১৪৪ ধারা এগুলো যেন অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল লালদিঘীর সমার্থক হিসেবে। লালদিঘী মাঠে প্রোগ্রামের দিক দিয়ে একচেটিয়া ছিল আওয়ামী লীগ।

মহিউদ্দীন চৌধূরীর জীদ্দশায় আওয়ামী লীগের প্রায় অনুষ্ঠান তিনি করতেন লালদিঘী ময়দানে। কিন্তু তার মৃত্যুর পর লালদিঘীতে অনুষ্ঠান কমে যায় আওয়ামী লীগের।

লালদিঘীতে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ঘরাণার অনুষ্ঠান কমে যাওয়ার রহস্য খুজতে বাংলাদেশমেইল মুখোমুখি হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে। জানতে চেয়েছে এর প্রকৃত কারণ।

কেন এই বিমুখতা, এটার ব্যাখা দিতে গিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ হাসনী  বলেন- এখন বর্ষাকাল তাই আমরা লালদিঘীতে প্রোগ্রাম করছি না। এছাড়া বড় কোনো প্রোগ্রাম হলে অবশ্যই লালদিঘীতে করব।

বর্ষাকালের আগেও পূর্বের তুলনায় প্রোগ্রাম কম হয় কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আমরা লালদিঘী থেকে পালিয়ে যাই নি।

মহানগর আওয়ামী লীগ বর্তমানে সাংগঠনিকভাবে আগের তুলনায় দূর্বল, যার কারণে লালদিঘীতে প্রোগ্রাম করতে পারছে না কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন- আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মহানগর আওয়ামী লীগ অতটা দূর্বল হয়নি। আমরা ছোট ছোট বিভিন্ন প্রোগ্রাম দিয়ে মাঠে থাকার চেষ্টা করছি।

অবশ্য এ বিষয়টা অন্যভাবে দেখছেন নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধূরী। তিনি বলেন- আসলেই লালদিঘীর মাঠেই আওয়ামী লীগের অনেক কাব্যগাঁথা রচিত হয়েছে। যখন আওয়ামী লীগ বিরোধীদলে ছিল তখন প্রায় সব অনুষ্ঠানগুলো লালদিঘীর মাঠেই হতো। দল এখন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায়, তেমন কোনো বড় দাবী দাওয়া নেই। তাই লালদিঘীতে প্রোগ্রাম করা হয় না।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন- বৃহৎ পরিসরে কেন্দ্র ঘোষিত প্রোগ্রাম থাকলে সেটা অবশ্যই লালদিঘীতে হয়। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্স প্রোগ্রামও লালদিঘীতে হয়েছিলো।

নগর যুবলীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন  জানান- মহিউদ্দীন চৌধূরী যখন ছিলেন তখন তিনি প্রত্যেকটা প্রোগ্রাম লালদিঘীতে করতেন কারণ তিনি চাইতেন জনসাধারণ এটাতে সম্পৃক্ত হউক। এখন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয় এসি রুমে কনভেনশন হলে। যেখানে সর্বসাধারণের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে দল ক্ষমতায়, দলের কাজগুলো জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে হলে এসি রুমে প্রোগ্রাম বাদ দিয়ে জনসাধারণ সম্পৃক্ত হতে পারে এমন জায়গায় অনুষ্ঠানগুলো করা উচিত। চট্টগ্রামে এমন জায়গা লালদিঘী ময়দান।

এ বিষয়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন- মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসলে এতবড় কোনো প্রোগ্রাম হয় না যেটা লালদিঘীর মত অত বড় মাঠের করতে হয়।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। তিনি বলেন- এবিএম মহিউদ্দীন চৌধূরীর মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতৃত্ব শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে সেটিরই বহিঃপ্রকাশ লালদিঘীতে প্রোগ্রাম করতে না পারা। কারণ লালদিঘীতে প্রোগ্রাম করার মত সাংগঠনিক অবস্থা বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের নেই।

মহিউদ্দীন চৌধূরী যখন বেঁচে ছিলেন তখন সামাজিক থেকে রাজনৈতিক, যৌতুক বিরোধী সমাবেশ থেকে মাছ বাজার রক্ষার প্রোগ্রাম সব তিনি লালদিঘীতে করতেন। কারণ তিনি জনগনকে সম্পৃক্ত করে রাজনীতি করতেন।

শেয়ার করুন :

ট্যাগ :



এই বিভাগের আরো খবর


লাইভ টিভি•LIVE