চট্টগ্রামে লাখ লাখ চামড়া রাস্তায় ফেলে গেছে ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)

গতকাল কোরবানীর পর সারা চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর থেকে পশুর চামড়া নিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তা ট্যানারিতে বিক্রির জন্য নগরীর পাঁচলাইশস্থ আতুরার ডিপু এলাকায় নিয়ে আসেন।

৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ করা চামড়া আড়তদারদের কাছে ৫০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারেননি নমৌসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা।

চামড়া আছে ক্রেতা নেই

কিন্তু সে চামড়া কম মূল্যেও ট্যানারি মালিকরা কিনে নেয় নি। ফলে নগরীর মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন আতুরার ডিপু এলাকা পর্যন্ত হাটহাজারী সড়কের দুই পার্শ্বে লাখ লাখ চামড়ার স্তুপ পড়ে থাকে।

ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে লাখ লাখ টাকার চামড়া ফেলে চলে যায়।

ফেলে যাওয়া চামড়া পঁচে বাজে গন্ধের সৃষ্টি হয়। যার ফলে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে চট্টগ্রামের আতুরার ডিপু এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউান্সিরের নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বুলডোজারের সাহয্যে এসব চামড়া ট্রাকে তুলে ডাম্পিং এ নিয়ে গিয়ে ফেলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজনৈতিক নেতা মো. ইদ্রিস আলী জানান, ব্যবসায়ীরা কোরবানীর পশুর চামড়া এনেছিল বিক্রি করতে কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চামড়া ফেলে চলে যায়। রাস্তার দুই পার্শ্বে লাখ লাখ চামড়া পড়ে থাকায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে এবং যানবাহন চলাচল ব্যহত হচ্ছিল। এ কারণে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা আজ বিকাল থেকে এসব চামড়া ট্রাকে তুলে নিয়ে ফেলে দিয়েছে।

পটিয়া থেকে ৩শ চামড়া নিয়ে এসেছিলেন মৌসুমী ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর। তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যায় গড়ে ২শ টাকা দরে চামড়া কিনে ট্যানারীতে এনেছিলাম বিক্রি করতে। কিন্তু মালিকরা চামড়া কিনতে চায় নি। তাই বিক্রি করতে পারিনি। ইতোমধ্যে চামড়ায় পচন ধরেছে। তাই ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছি।

ঢাকার বাইরে এবার সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দর ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। বড় গরুর প্রতিটি চামড়া সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বর্গফুট হয়। ছোট গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ বর্গফুট পর্যন্ত হয়।

কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাদের পর্যাপ্ত চামড়া ক্রয় করতে না পারার কথা স্বীকার করে বলেন নানান সীমবিন্ধতার কারণে চাহিদা মত চামড়া কেনা যায়নি। একেতো এখন ট্যানারীর সংখ্যা কম, দ্বিতীয়তা ট্যানারী মালিকরা পুঁজিহারা। ঢাকার ট্যানারী মালিকরা গত বছরের সরবরাহ করা প্রায় দেড়শ কোটি টাকা এখনো দেয় নি। তাই এবার চামড়ার ব্যবসা মন্দা।

বিএম/এমআর