বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ১০:৫৩ : পিএম


Tweet

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-২১ ২০:৪১:৪০ পড়তে সময় লাগবে 2 মিনিট

গর্ভপাতের ভ্রূণ নিয়ে থানায় কলেজছাত্রী

গর্ভপাতের ভ্রূণ নিয়ে থানায় কলেজছাত্রী

প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে গর্ভপাতের ভ্রূণ ব্যাগে ভরে থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ করেছে এক কলেজছাত্রী। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, প্রেমিক তাকে কৌশলে গর্ভপাত করানোর কারণে বাধ্য হয়ে সে থানায় এসেছে।

আজ বুধবার রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। রংপুরের গঙ্গচড়া উপজেলায় ঘটনাটি ঘটেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরী এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। গঙ্গচড়া উপজেলার ঘাঘটটারী ভাংনী এলাকার বিশাদ আলীর ছেলে জনির সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে জনি তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। ফলে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে মেয়েটি তার প্রেমিককে বিষয়টি জানিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু প্রেমিক বিভিন্নভাবে টালবাহনা করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলে, ‘জনি আমাকে বিয়ের কথা বলে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। আমার গর্ভে সন্তান এলে জনিকে বিষয়টি জানাই। জনি গর্ভের সন্তান নষ্ট করে বিয়ের কথা বললে আমি তার কথায় রাজি না হয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেই। এভাবে বিয়ে করার টালবাহনায় আমার গর্ভের সন্তানের বয়স চার মাস হলে জনি হঠাৎ ঢাকায় পালিয়ে যায়। ঢাকায় মোবাইলে জনির সাথে যোগাযোগ করলে সে আজকাল করে দুই মাসেরও বেশি সময় পার করে এবং আমার গর্ভের সন্তানের বয়সও ছয় মাস পার হয়।’

ওই ছাত্রীর ভাষ্যমতে, ‘গত সোমবার বিকেলে রংপুর শহরের ক্লিনিকে কর্মরত জনির বন্ধু শিমুল আমার কাছে এসে জনির সাথে বিয়ের কথা বলে আমাকে শহরে নিয়ে যায়। সেখানে শিমুল তার কর্মরত ক্লিনিকে বসায় রাখে এবং বলে, “জনি ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়েছে তোমাকে এখানে অপেক্ষা করতে বলেছে।” আমি তার কথায় বিশ্বাস করে অপেক্ষা করতে থাকি। অপেক্ষার একপার্যায় শিমুল জনির কথামত কৌশলে খাবারের সাথে ওষুধ খাওয়ালে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন সকালে (মঙ্গলবার) আমার গর্ভপাত হয়ে আমার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। আমি উপায় না পেয়ে ওই নষ্ট সন্তানকে কৌশলে ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরিবারের লোকজনকে জানিয়ে বুধবার থানায় আসি লম্পট জনি ও তার বন্ধু শিমুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য।’

‍বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি গর্ভপাত ঘটানো ভ্রূণটি নিয়ে থানায় এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে।’

বিএম/এমআর

শেয়ার করুন :

লাইভ টিভি•LIVE