সেই ডিসির ভিডিও এখন পর্ন সাইটে

জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির নিজ কার্যালয়ে এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এখন আন্তর্জাতিক একাধিক পর্ন সাইটে চলে গেছে।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মিনিট পাঁচেকের হলেও পর্ন সাইটে পুরো ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিও আপ হয়েছে। অর্থাৎ ফেসবুক বা ম্যাসেঞ্জারে কাটছাট করে ছাড়া হয়েছিল ভিডিওটি।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ডিসি অস্বীকার করলেও ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে জামালপুরের সব স্তরের মানুষ।

এ নিয়ে তোলপাড় হয়েছে সচিবালয়েও। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলম জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি জেনেছেন। সচিব বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখছি। দু-এক দিনের মধ্যে এটি সমাধান হবে।’

রবিবার খুললে বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করবে মাঠ প্রশাসনের দেখভালের দায়িত্ব থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করা হয়। শুক্রবার ভোরের মধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও শুক্রবার সকাল আটটা থেকে ওই আইডিতে ভিডিওটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে সেটি ছড়াতে থাকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে।

দুপুরে জামালপুর সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলন ডেকে জেলা প্রশাসক দাবি করেন, যে পুরুষটিকে দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে, সেটি তিনি নন। তবে এটি তার কার্যালয়ের ভেতরে স্থাপন করা শোয়ার কক্ষ যে, এটি তিনি স্বীকার করেন।

এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে ডিসি বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। আপনারা আমাকে একটু সময় দেবেন। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’

তবে পরদিন ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের পুরো ভিডিওটি পর্ন সাইটে আপ হয়ে যায়। বাংলাদেশে এই সাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও বিকল্প পন্থায় এখনো তা দেখা যায় এবং তার মাধ্যমেই এই ভিডিওটিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ঘটনার পর ভিক্ষুকমুক্ত জামালপুর গড়তে নাটিকা ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সকালে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর জেলা প্রশাসকের কক্ষের খাস কামরা থেকেও আলোচিত খাটটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় জামালপুর জেলাবাসীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। লজ্জাকর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘এ ধরনের অনৈতিক কাজের বিচার না হলে সরকারি, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বেন।’

শিক্ষক সমিতির নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, ‘দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

রাজনীতিবিদ আমীর উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় একজন জেলা প্রশাসক এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন। চরম অনৈতিক এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’

বিএম/এমআর