রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করছিল এনজিও মুক্তি!

কক্সবাজার প্রতিনিধি : উখিয়ার কোটবাজারের ভালুকিয়ার একটি কামারের দোকান থেকে বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এসব অস্ত্রের সঠিক নাম ও পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার সকাল ১১ টায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া উপজেলার সহকরী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম। ভালুকিয়া সড়কের একটি কামারের দোকান থেকে দেশীয় এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরনের জন্য বেসরকারী এনজিও সংস্হা মুক্তি এসব অস্ত্র তৈরী করতে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কামার অধীর দাস। এর আগে এসব অস্ত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্হানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

এর আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কামার অধীর দাশ থেকে ভিডিও সাক্ষাৎকার নেন উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন। সাক্ষাৎকারে কামার অধীর দাশ জানান, এনজিও মুক্তির জন্য পক্ষে প্রায় একমাস আগে ২ হাজার ৬শ পিস দেশীয় অস্ত্র তৈরীর অর্ডার দেন ভালুকিয়ার বাসিন্দা সাইফুল। অর্ডার দেয়ার সময় ৩০ হাজার টাকা অগ্রীম দেন সাইফুল।

উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, এনজিও সংস্হা মুক্তির জন্য ভালুকিয়ার জনৈক সাইফুল এসব অস্ত্র তৈরীর অর্ডার দিয়েছিল।

এসিল্যান্ড আরো বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরনের জন্য দেশীয় অস্ত্র তৈরীর ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুক্তির কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ বলেন, এ বিষয়ে আমার সাথে কোন আলাপ আলোচনা করা হয়নি। টেন্ডার করা হয়েছে কিনা? তাও জানিনা।

তিনি বলেন, গত ২২ আগস্ট যে সভা হয়েছে সেখানেও এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবনা উত্থাপিত হয়নি। এমনকি আমাকে মৌখিকভাবেও এ বিষয়ে অবগত করেনি কেউ।

জানা গেছে, টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য ৬ হাজার দেশিয় অস্ত্র সরবরাহের করতে চাচ্ছিলো “মুক্তি”। সংস্থাটির সভাপতি শিবুলাল ভারত ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোলদীঘির পশ্চিমপার এলাকার হরিদাস দেবদাসের ছেলে শিবু লাল দেবদাস (৬১) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাসিন্দা। ২০১৯ সালে প্রণীত ভারতের (৫২৫) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-২৪ পরগনা জেলার বারাসাত (সদর) মহকুমার মধ্যগ্রাম থানা ও পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুনগর এলাকার (৭০০১২৯) ভোটার। তার ভোটার নম্বর ২২৪ ওয়াইসিডাব্লিউ ১৫০৩৩১৭, বাড়ি নম্বর-এন০২৬৬।

একই ভাবে তার স্ত্রী সীমা দেবদাস (৫১) এবং ছেলে অমর্ত্য দেবদাসও সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। স্ত্রীর ভোটার নম্বর-২২৫ ভিএইচএম ১৭৪৯৪৪৯, বাড়ি নম্বর-এন ০২৭৬ আর ছেলের ভোটার নম্বর-২২৩ ওয়াইসিডাব্লিউ ১৯৬৪৯৭২, বাড়ি নম্বর-এন ০৩৬১।

আবার শিবু লালের বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) নম্বর-১৯৫৮২২২২৪০৯৩৬৭৮৮৮। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ভোটার লিস্টে ৩৬৭৮৮৮ নম্বর ফরম মূলে তার নাম রয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার গোলদিঘীর পশ্চিমপাড় (১৩৭৭) এলাকার ১১৭ সিরিয়ালের ভোটার নম্বর-২২১৩৭৭৩৬৭৮৮।

বিএম/ইসলাম/রাজীব..