রুপপুরের বালিশকান্ডকেও হার মানিয়েছে ফরিদপুর মেডিকেল

শাহাদাৎ হোসেন শাওন : রুপপুর প্রকল্পে কেনাকাটায় চাঞ্চল্যকর দূর্নীতির ঘটনার তদন্ত শেষ হতে না হতেই প্রকাশ পেলো ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের কেনাকাটায় পুকুরচুরির ঘটনা । যা রুপপুরের বালিশকান্ডকেও হার মানিয়েছে।

বছর খানেক আগে দূর্নীতির সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের বড় অংকের বিল আটকে দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আটকে দেয়া ১০ কোটি টাকা বিল ফিরে পেতে মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের হাইকোর্টে আবেদনের পর বের হয়ে আসলো নতুন এ ঘটনা। এবার একই প্রতিষ্ঠান ফরিদপুর হাসপাতালের কেনাকাটায় গড়েছে দুর্নীতির নতুন নজির। যা রুপপুর বালিশ কান্ডকেও হার মানায়।

হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যন্ত্র ও আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম কেনাকাটাতে অন্তত ৪১ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিবিড় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১২-১৬ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক টেডার্সের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও এর সাথে সম্পৃক্তার প্রমাণ মেলে । সম্প্রতি দেশের বেসরকারী টেলিভিশন নাগনিক টিভির অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে আসে।

টেলিভিশনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মেসার্স অনিক টেডার্সের প্রায় ১০ কোটি টাকার বিল বছর খানেক আগে আটকে দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। পরে বিল পরিশোধের আবেদন জানিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুন রিট আবেদন করে প্রতিষ্টানটি। এরপর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

হাসপাতালটির যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় বিল দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২শ টাকা, অথচ যন্ত্র ও আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম বাবদ প্রকৃত হওয়ার কথা প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। এতে মেসার্স অনিক টেডার্স বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭শ ৩৭ টাকা।

এখানে আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্লান্ট ৮৭ লাখ ৭৫ টাকা, একটি বিএইইস মনিটরিং প্লান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার , তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন ৩০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ টাকা। এই চিত্র মনে করিয়ে দেয় রুপপুরের বালিশ কান্ডের ঘটনা।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি আ্যটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ মাহমুদ বাশার বলেন, এক রোগী থেকে আরেক রোগীকে আড়াল করার পর্দার দাম দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা বাজার মূল্যের সাথে কোনভাবেই যায় না। এটি মনগড়া একটি হিসাব।

তিনি আরো বলেন,যারা দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন তারা যেহেতু এ ঘটনায় জড়িত, তাই তাদের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক নয়, আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত। তবে সেটা দুদক তদন্ত করে নির্ধারণ করবে।

বিএম/আরএস..