এক হাজার ইভিএম পুড়েছে ইসি ভবনের আগুনে

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে লাগা আগুনে প্রায় এক হাজার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পুড়ে গেছে।

রবিবার রাতে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে এসি, বৈদ্যুতিক ক্যাবলসহ আরও কিছু ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার দুপুরে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান।

এ সময় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইসি কর্মকর্তাদের ইভিএম মেশিন ক্ষতির পরিমাণ গণনা করে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘তারা হিসাব করলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া যাবে। সেখানে ইভিএম মেশিন পাঁচ থেকে ছয় হাজারের মতো মেশিন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ইভিএম মেশিন এক হাজারের কম হবে না।’

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওখানে যেহেতু কেউ বসবাস করে না, সেখানে কোনো হিটার নেই, কাজেই বিদ্যুৎ ছাড়া অন্যকিছু তো দেখছি না।’

আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করতে গিয়ে ইসির এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমি আজকে ভেতরে গিয়ে দেখলাম, সেখানে অল্প ক্ষতি হয়েছে। ভেতরে কয়েকটি এসি আছে, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসির লাইন, বিদ্যুতের ওয়ারিংগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইভিএম, বিশেষ করে ব্যালট ইউনিট, মনিটর–এগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কন্ট্রোল ইউনিট যেটা বেশি মূল্যবান সেগুলো পাশের কক্ষে ছিল, সেগুলোর ক্ষতি হয়নি।’

তবে এক হাজার ইভিএম মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি-না জানতে চাইলে পাশে থাকা এনআইডির ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এত হবে না।’তিনি বলেন, ‘আগুনে সেখানে থাকা ব্যালট ইউনিট রয়েছে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পয়েন্ট অব ফায়ার যেটা দেখলাম মেইনলি কেবলের দিকে ফায়ারটা ছড়িয়েছে। যার জন্য উপরের ক্যাবলগুলো পুরে গেছে। যে এসিগুলো ছিল সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যাবলের বক্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের ব্যালট ইউনিট, মনিটর, কন্ট্রোল ইউনিট যেভাবে আশঙ্কা করেছিলাম সে তুলনায় ক্ষতি হয়নি। ক্ষতির পরিমাণ খুবই নগণ্য।’

‘তবে এটা আমরা বলবো যে, এটা ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য এবং টিম ওয়ার্কের জন্য এত বড় একটা ক্ষতির হাত থেকে আমরা বেঁচে গেছি।’

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্তের পর আমরা দেখব। এনআইডি উইংয়ের পক্ষ থেকে আমরা বলব, সেখানে ইভিএম ব্যবহারের চেষ্টা করবো। আমরা সেই ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। বাকিটা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কমিশনে উপস্থাপন করবো। কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইভিএম কোনোটা তিনদিন আগে এসেছে, এগুলো পর্যায়ক্রমে এসেছে। এখানে সাড়ে চার হাজার সেটের মতো ইভিএম রেখেছি। সেগুলো বিভিন্ন রুমে রয়েছে। যে রুমে আগুন লেগেছে সেই রুমে দুই মিটারের মধ্যে আমরা দেখলাম, কোনো কন্ট্রোল ইউনিট অথবা ব্যালট ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যেটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেটুকু পানি দিয়ে নেভানোর কারণে।’

সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজপত্র ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেখানে কোনো কাগজপত্র ছিল না।’

বিএম/এমআর