তাজিয়া মিছিলে মানুষের ঢল

কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে স্মরণ করে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। এ উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল বের হয়েছে পুরান ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকার হোসেনি দালান থেকে।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে শিয়া মুসলিমরা এই ঐতিহ্যবাহী মিছিলের আয়োজন করে।

কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, কারবালার শোকের মাতম উঠেছে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয় মিছিলে। বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন’, ‘হায় হোসেন’ মাতম তুলে খালি পায়ে এগিয়ে যায় জনতা।

এর আগে সকাল থেকে ঘোড়া, কবুতর ও নিশানসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে হোসেনি দালান এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিয়া মুসলিমরা।

তাজিয়া মিছিলটি বকশি বাজার, উর্দুরোডে, লালবাগ চৌরাস্তা, ঘোড়া শহীদের মাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে জিগাতলা (ধানমন্ডি লেকের কাছে) গিয়ে শেষ হবে। পথের দুই পাশে রয়েছে উৎসুক জনতার ভিড়।

তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার খানিকটা ভিন্ন আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাজিয়া মিছিল। এতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ঢোল বাজিয়ে ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা। যদিও আগের বছরগুলোতে পাইকরা নিজের শরীরে আঘাত করে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করতেন। যাকে তাজিয়া মিছিলের মূল আকর্ষণ ধরা হতো।

তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নেয় হোসেনি দালানে। সকালে মিছিলে আসা লোকজনকে তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা আছেন তৎপর।

হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম হজরত মুহাম্মদের (স.) দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) তৎকালীন শাসনকর্তা এজিদের সৈন্য বাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন। শিয়া মুসলমানরা গুরুত্ব বিবেচনায় এ দিনটিকে সুন্নিদের চেয়ে ভিন্নভাবে পালন করে।

ঢাকায় তাজিয়া মিছিল শুরুর সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে মনে করা হয়, ১৬৪২ সালে শাহ সুজার শাসনামলে হোসেনি দালান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ শোক উৎসবের সূচনা করেন সৈয়দ মীর মুরাদ।

বিএম/এমআর