নাছির-নওফেলের দূর্গে যুবলীগের কমিটি দিবেন এমপিরা !

 বাংলাদেশ মেইল স্পেশালঃ অক্টোবরে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের আগে এ মাসেই নগরীর ৩৮ ওয়ার্ডে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি করতে চায় যুবলীগ। কমিটি করার দায়িত্ব পাচ্ছেন স্থানীয় এমপিরা।

হঠাৎ সম্মেলনের আগে এমপিদের দিয়ে কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। অনেকের অভিযোগ কয়েকজন সাংসদ সদস্য ছাড়া বাকীদের সাথে যুবলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া মহাজোটের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের বাইরেও অন্য সংগঠনের সাংসদ সদস্য রয়েছে চট্টগ্রামে। এদের সাথে নূন্যতম যোগাযোগ নেই যুবলীগ নেতাকর্মীদের। এই মুহূর্ত্যে যদি এমপিরাই আহ্বায়ক কমিটি দেন তাহলে তৃণমূলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী বাদ পড়ার যেমন শঙ্কা রয়েছে তেমনি সম্মেলনেও গোলযোগ এমনকি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরীতে হুমকি সৃষ্টির আশংখ্যা রয়েছে।

তবে এসব মানতে নারাজ যুবলীগ চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন- দীর্ঘ ৬ বছর মহানগর যুবলীগ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অনেক সময় পেয়েছে কিন্তু ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটিগুলো গঠন সম্পন্ন করতে পারে নি। তাই দলীয় এমপিদের অধীনে তাদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ।

সম্মেলন কোন প্রক্রিয়ায় বলে এমন প্রশ্নের জবাবে যুবলীগ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন- স্বচ্ছ ব্যালট বক্সে ভোট দিয়ে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন কাউন্সিলররা। এই যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি হবে সেই কমিটির প্রত্যেক সদস্যরাই হবে কাউন্সিলর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর যুবলীগের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা আলতাফ হোসেন বাচ্চু জানিয়েছেন- চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় এমপিদের সাথে আলোচনা চলছে। চট্টগ্রামের বিবাদমান রাজনৈতিক হিসেব নিকেশ চিন্তা করে সবগ্রুপ থেকে কর্মী নিয়ে এমপিরা ব্যালেন্সিং কমিটি করবে বলে আমি আশা করি।

সাংসদ সদস্যরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি দিচ্ছে এতে মহানগর যুবলীগ কিভাবে সমন্বয় করছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চু বলেন- এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি নাহ। চেয়ারম্যান নির্দেশনা দিয়েছেন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু ভাই সমন্বয় করতেছেন এমপিদের সাথে। তাহলে এতদিন যে সব কর্মীরা আপনাদের অধিনে রাজনীতি করেছেন তাদের মূল্যায়ন কেমনে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাচ্চু বলেন- আমি অবজারভেশনে আছি। দেখি শেষ পর্যন্ত কি হয় !

এক্ষেত্রে অনেকটা কৌশলী বক্তব্য দিয়েছেন নগর যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ। তিনি বলেন- কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখনো পর্যন্ত সাংসদ সদস্যরা আমাদের সাথে আলোচনা করেন নি। তারা যদি আমাদের সহযোগীতা চায় তাহলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগীতা করব।

যেসব জায়গায় মহাজোটের শরীক অন্য ঘরানার এমপিরা রয়েছে সেসব জায়গায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক মহানগর যুবলীগের সাথে সমন্বয় করে কমিটি দেয়ার কথা সংগঠনের ভিতরে আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক দিদারুল আলম দিদার। তিনি বলেন, এখানে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। কমিটিতে ত্যাগী পরীক্ষিত কেউ বাদ পড়লে আমরা তাদের ডেলিগেট করে নেয়ার চেষ্টা করব, যেটি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিবেন।

সাংসদ সদস্যরা কমিটি দিলে দীর্ঘদিনের ত্যাগীরা কমিটি থেকে বাদ পড়ার আশংখ্যা প্রবল মনে করছেন মহানগর যুবলীগের সদস্য ও কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব। তিনি বলেন- এটাতো অস্বীকার করার উপায় নেই চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের রাজনীতি দু ভাগে বিভক্ত। একটা নাছির ভাইয়ের গ্রুপ অন্যটা নওফেল সাহেবের। সেখানে,এমপিরা ১২ দিনে ৩৮ টা ওয়ার্ডে তড়িঘড়ি করে কমিটি দিলে নেতৃত্ব নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে। আগে সবার আলোচনায় বসার দরকার আছে বলে মনে করি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কেন্দ্র থেকে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের। গত ৬ বছরে তারা ব্যর্থ হলে আগামী অক্টোবরে সম্মেলন নির্ধারন করে দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।