বিজিএমইএ'র তথ্যসূত্রে চট্টগ্রামে এই পর্যন্ত বন্ধ হয়েছে ৩৫৮ টি তৈরি পোশাকশিল্প
চট্টগ্রামে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত ১২ মে দেওয়ান হাট দিঘির পাড় এলাকার “লাটসন এ্যাপারেলস্ লিঃ” বন্ধ হয়ে যায়।সেখানে প্রায় ৬০০ শ্রমিক কাজ করতো।সেখানকার শ্রমিকদের চাকুরীজনীত ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের তোয়াক্কা করা হয়নি। শ্রমিকদের ২ মাসের মূল মজুরী দিয়েই সন্তুষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া গত ৮ আগস্ট সাগরিকা, পাহাড়তলী এলাকার অলঙ্কার মার্কেটের পিছনে “এম এন্ড এস সুয়েটার লিঃ” বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করতো। সেখানকার শ্রমিকদের অদ্যাবধি কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি।

মাঝিরঘাট এলাকার “শিম্পনী এ্যাপারেলস লিঃ” নামে আরও ১টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও কারখানা স্থানান্তর ও কাজের অর্ডার না থাকার বাহানায় শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সের শর্তানুযায়ী কারখানা সংস্কার করতে না পারার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। সেই সঙ্গে গত এক বছরে সব মিলিয়ে পোশাক কারখানার পরিচালনা ব্যয় বেড়েছে ৪২ শতাংশ। আর অন্যদিকে কমেছে কাটিং অ্যান্ড মেকিং চার্জ। তার ওপর ব্যাংকগুলোতে উচ্চহারে সুদ থাকায় চট্টগ্রামের তৈরি পোশাকশিল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগোতে পারছে না।
বিজিএমইএ চট্টগ্রাম সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, চট্টগ্রামে তৈরি পোশাকশিল্পের সংখ্যা ছিল ৬৮৬। এগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৩৫৮টি। বর্তমানে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠান সচল থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সাব-কন্ট্রাক্টিং পদ্ধতিতে বর্তমান পোশাক উত্পাদন করছে ১৪২টি প্রতিষ্ঠান। গত একদশকেও চট্টগ্রামে অনেক তৈরি পোশাকশিল্প বন্ধ কিংবা রুগ্ণ হয়ে পড়েছে।