কবি জয় এর নতুন কবিতা ‘মধ্যবিত্তের মরিচা’

মধ্যবিত্তের মরিচা
মোঃ রাসেল উদ্দীন জয়

আমি তো সে মধ্যবিত্ত!
যার স্বপ্নগুলো তিক্তরসে ডুবে যায়,
আর বাস্তবতা নিষ্ঠুরতার বুকে ঠায়।
যার হাসি ফুটে মিথ্যা অভিনয়ের মাঝে,
আর পুরনো জামা থাকে নতুনত্বের ভাঁজে।

আমি তো সে মধ্যবিত্ত!
যার চরণতলে ছেড়া পাদুকার বাস,
আর সে পাদুকা থেকে যায় অবিরত মাস।
আমার চরণবিলে ধূলিকণাদের চাষ,
আমায় বলতে পারো জীবন্ত এক লাশ।

আমি তো সে মধ্যবিত্ত!
যার মুখে লবণজলেও মধু ভাসে,
যে আঘাত গুজে দিব্যি হাসে।
যার সম্মান মাটি কুড়িয়ে আসে,
যার বিপদে কেউ থাকেনা পাশে।

জানেন,আমি সে মধ্যবিত্ত!
যার চলার পথ নকশী কাঁথার সুতোর মত,
এই চিকন সুতোয় বাঁধা আছে শত শত।
এই সুতোর ঘিরায় আছে হোচট কত!
এই সুতোতে ভেঙেছুড়ে থাকি যত।

আমি সে মধ্যবিত্ত!
যার সুখের গালিচায় কষ্টের সমাহার,
যার অতীত লিখেছি কেটে যাওয়া অনাহার।
যার হৃদয়-জমিনে স্বপ্নের সমাহার,
স্বপ্নের সুতোয় রঙ বিঁধেছে ব্যর্থ উপহার।

আমি সে মধ্যবিত্ত!
যার জামা থেকে কোনো পারফিউম আসেনা,
যার বুকপকেটে কোনো টিস্যু থাকেনা।
যার হাতঘড়িতে তিন-কাঁটা ও ঠিক চলেনা,
যার ভাঙা কাঠের জীবন গল্প কেউ বলেনা।

আমি সে মধ্যবিত্ত!
যার তাজা ঘামের জীবন কাটে খুচরো টাকায়,
যার ছেড়া জুতায় বড়লোকে দৃষ্টি বাঁকায়।
যার ইচ্ছাগুলো পারি দিতে মিথ্যা আঁকায়,
যার জীবন চলে বগি ছাড়া খালি চাকায়।

আমি সে মধ্যবিত্ত!
যে লোকাল বাসে দাড়িয়ে চলি মাঝে মাঝে,
আবার কখনো পায়ে হাঁটি গলির ভাঁজে।
ক্ষুধাতৃষ্ণার বোঝা নিয়ে ছুটি কাজে,
বড়লোকের গাড়ি কি আর আমায় সাজে!

আমি সে মধ্যবিত্ত!
আমার মিথ্যে স্বপন লুকিয়ে রাখি বালিশের তলে,
আমার ইচ্ছাগুলি ডুব দিয়েছে গঙ্গার জলে।
আমার তৃপ্তি আসে পানি খেয়ে চাপাকলে,
আমার কথা মিডিয়াতে কে বা বলে!

হুম আমি সে মধ্যবিত্ত! আমার টং দোকানেও থাকে বাকি,
তাই আমি মুখ থাকিতেও চুপ থাকি।
আমার সম্পর্কে মিডিয়াতে নিউজ বাকি,
আমার জীবন-গল্প এইটুকুতে বন্ধ রাখি।