মিথ্যা তথ্য ও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল!

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতারা

    চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১ কোটি টাকা খাজনা ও জামানত এবং ৩২ লাখ টাকা বার্ষিক ভাড়ায় ৪ একর জমির ওপর গড়ে তোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বাজার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উদ্যোক্তারা। এছাড়া একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রকে দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের বিরুদ্ধে কুঠারাঘাত উল্লেখ তারা বানোয়াট, মিথ্যা তথ্য ও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাংবাদিক ও জনসাধারণকে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করে সমিতির নের্তৃবৃন্দরা।

    আজ রোববার ৬ জানুয়ারী দুপুরে নগরের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক আমীর হোসেন।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সমিতির কোন ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখল করে বা জায়গার মালিক সেজে বাজার প্রতিষ্ঠা করেনি। বন্দরের ভাড়াটিয়া হিসেবে ৩ দশমিক ৯৭৭৫ একর জায়গায় সমিতি বাজারটি প্রতিষ্ঠা করে। অতএব জায়গা দখল করে মৎস্য বাজার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নই আসে না।

    ‘খালের মোহনা দখলের যে অপবাদের নামে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত সত্য হলো-বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় চাক্তাই-রাজাখালী খালের মোহনার দুই পাড়ে সিসি ব্লক দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার কারণে খালের মোহনা আরও প্রশস্থ হয়েছে। সুতরাং এখানে কোন প্রকার খাল দখলের প্রশ্নই আসে না।’

    তিনি আরও বলেন, পাথরঘাটা ইকবাল রোড ফিশারিঘাটে স্থান সংকুলান না হওয়া, গভীর সমদ্র থেকে মাছ আনতে খরচ বেড়ে যাওয়া, নোংরা পরিবেশ নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের আপত্তি, যানজট-জনদুর্ভোগ, বিভিন্ন ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১৫ বছরের চুক্তিতে নতুন অবতরণ কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বাজারটি ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্ধলাখ মানুষের জীবিকা জড়িত।

    ১৯৬০ সালে ইস্ট পাকিস্তান প্রভিনশিয়াল ফিশারম্যানস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামকরণ করা হয়। সমিতির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯১টি কেন্দ্রীয় ও ৫৭০টি নিবন্ধিত প্রাথমিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে ২ কোটি মৎস্যজীবীর ভাগ্যোন্নয়ন করেছে সমিতি।

    সমিতির মাধ্যমে বরফ কল, হিমাগার, জাল বুনন কারখানা, কারিগরী কারখানা, ফেরোসিমেন্ট নৌ নির্মাণ কারখানা, মৎস্য বিপণিকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ সালে উপকূলীয় ১৪ জেলায় মাছ ধরার সরঞ্জামসহ ৬০০ যান্ত্রিক নৌকা দেওয়া হয় সমিতির সদস্যদের।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোনালি যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি নূর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক বাবুল সওদাগর, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ নিজামুল ইসলাম, এরশাদুল আলম, হাফেজ মোহাম্মদ ইসমাইল, সেলিম উল্লাহ, প্রবীর দাশ একে এম ফজলুল হক ও এনামুল হকসহ সোনালী যান্ত্রীক মৎস্য সমবায় সমিতির নের্তৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিএম/রাজীব/ইমরান…