সংসদে শক্ত বিরোধী দলের ভূমিকা হোক শরিকদের-কাদের

    রাজনীতি মেইল : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংসদে শরিক দলের সাংসদদের শক্ত বিরোধী দলের ভুমিকায় দেখতে চাই আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, জোটবদ্ধ হয়ে একক প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিলেও সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী ১৪ দলের শরিক নেতাদের বিরোধী দলে বসাই ভালো। তা হলে সেটি সরকার ও শরিকসহ সবার জন্য ভালো হবে।

    শরিকরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছে। তারা সরকারে থাকতে চাই,বিরোধী দলে নয় এমন কিছু মন্তব্যে ব্যাখা দিতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের সমাবেশের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ১৪-দলীয় জোট আদর্শিক জোট, রাজনৈতিক জোট। এটি কোনো নির্বাচনী জোট নয়। মহাজোটে কোনো টানাপোড়েন নেই। সংসদে বিরোধী দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

    মন্ত্রী বলেন, শরিক দলের সংসদ নেতারা বিরোধী দলের আসনে বসলে এবং দায়িত্বশীল বিরোধিতা যদি করেন, সেটা সরকারের জন্যও ভালো, তাদের জন্যও ভালো।

    বিএনপির এখন লেজে-গোবরে অবস্থা তাই দলটির নেতারা বেপরোয়া মন্তব্য করছেন সেতুমন্ত্রী। বলেন, পরাজিত বিএনপি বেপরোয়া, ঐক্যফ্রন্টে এখন ভাঙনের সুর। তবে ধৈর্যশীল আওয়ামী লীগকে জনগণ ভোট দিয়ে বিপুল বিজয় উপহার দিয়েছে। আর বিজয় জনগণের প্রতি বিশাল দায়িত্বের নামান্তর। তাই সরকার জনগণের অসুবিধা হয়, কষ্ট হয় এমন কোনো কিছু করবে না।

    নির্বাচনের মতো ১৯ জানুয়ারির সমাবেশেও আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার হবে বলে আশা করেন ওবায়দুল কাদের। ১৯ জানুয়ারি অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ঘোষণা দেবেন বলেও জানান তিনি।

    গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিজয় অর্জন করে। ঘোষিত ফলাফলে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৫৭টি আসনই আওয়ামী লীগের। ২২টি জাতীয় পার্টি, ২টি করে আসনে বিজয়ী হয় তরীকত ফেডারেশন , ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ (ইনু)। জাসদ (আম্বিয়া) একটি, জেপি (মঞ্জু) একটি আসনে জয়লাভ করেছেন। মঞ্জু ছাড়া বাকি সবাই নৌকা প্রতীকে জিতেছেন। এরই মধ্যে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসেছে। পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন।

    গতবার শরিক দলের নেতারা সরকারের মন্ত্রিপরিষদের থাকলেও এবার ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভায় শরিক দলের কাউকে স্থান দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা ডানা মেলছিল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মধ্যে শরিক দলের নেতারা বিরোধী দলের আসনে বসতে চান না এমন খবর আসে গণমাধ্যমে।

    বিএম/রাজীব…