সৈয়দ আশরাফ ছিলেন রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য একটি আলোর মশাল-খোরশেদ আলম সুজন

    বিএনপির আমলে ৮-১০ জন মন্ত্রী যা পারেনি, কম মন্ত্রী নিয়েও আওয়ামী লীগ বেশি কাজ করেছে

    রাজীব সেন প্রিন্স, বিশেষ প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর থেকে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিকবার নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে মন্ত্রী হওয়ার প্রত্যাশা বহু গুণে বেড়ে গেছে। দেশের অন্যান্য সংসদীয় আসনের তুলনায় চট্টগ্রামের ১৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও এবার মন্ত্রী হতে আগ্রহী। শপথ গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এমন ইঙ্গিত বহন করছে। অবশ্য মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া যাদের স্বপ্ন, নিজের মুখে কেউ ইচ্ছের বহিঃপ্রকাশ করছে না। দলীয় নেতা কর্মী ও এলাকাবাসীর বক্তব্যে তা স্পষ্ট হচ্ছে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে বেশি সদস্য মন্ত্রী হলে আগের চাইতেও বেশি উন্নয়ন হবে ধারণা থেকেই তাদের নিজ নিজ সমর্থকরাই এ দাবী তুলছে।

    এসব নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের সাথে। নগরীর আকবর শাহ থানা কাট্টলী এলাকায় তার বাস ভবনে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, মন্ত্রীসভায় ক’জন আসলেন, গেলেন তা বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে জনসেবা ও আদর্শে অবিচল থেকে কোন নেতা সাধারণ মানুষের মনের ভেতর কতখানি জায়গা করে নিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে বেশি মন্ত্রী নিলেই যে বেশি কাজ হবে সেটি আমি বিশ্বাস করিনা।

    তিনি পূর্বের ইতিহাস টেনে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আট-দশজন মন্ত্রী ছিলেন শুধু চট্টগ্রামেই। তৎকালিন একজন মন্ত্রী একটা একটাও যদি ইট সংগ্রহ করতেন চট্টগ্রামে ইটের স্তুপ পড়ে যেত। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে মন্ত্রী কম থেকেও পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে উন্নয়ন কাজ হয়েছে বেশি।

    চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী এ নেতা বলেন, নেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই আমাদের চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিয়েছে। এটা ভু-গতাণুগত অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম একদিন পৃথিবীর আকর্ষনীয় অর্থনৈতিক হার্বে পরিণত হবে। এটার জন্য বাকি আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো গঠন করাই হবে আমাদের চট্টগ্রাম নের্তৃবৃন্দের একমাত্র লক্ষ্য।

    আওয়ামী লীগের বড় জয়ের আনন্দের মাঝেও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতার বিয়োগকে তিনি কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য একটি আলোর মশাল। বাংলাদেশের কোটি কোটি স্বার্থান্বেষী মহলের ভিড়ে একজন জনবান্ধব নিঃস্বার্থ রাজনীতিবীদ ছিলেন সৈয়দ আশরাফ।

    ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও ক্ষমতার উচ্চিষ্ট ভোগ না করে যে, মানুষ বেঁচে থাকতে পারে তার জলন্ত উদাহরণ হচ্ছে সৈয়দ আশরাফ। তিনি আদর্শবান রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য চির অবিস্মরনীয় একটি উদাহরণ। দলের দুঃসময়ে প্রতি পদে পদে যার অবস্থান ছিলো আজ দলের সুসময়ে তাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। সত্যিই এটা বেদনাদায়ক।
    দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি কোটি রাজনৈতিক কর্মীকে এতিম করে চলে গেলেন।

    সুজন বলেন, আমি সৈয়দ আশরাফের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই। আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন। কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার জন্য বড় একটি মিলাদের আয়োজন করা হবে বলেও জানান সুজন।

    মন্ত্রীসভার বহরে যুক্ত করার জন্য চট্টগ্রামে গত কয়েকবারের নির্বাচিত এমপি, সাবেক মন্ত্রীদের হয়ে এলাকাবাসী বা স্থানীয় নেতাকর্মীরা সোচ্চার হচ্ছে, রাস্তায় নামছে, গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। দেখা গেছে, দাবির সমর্থনে তাদের যতখানি যুক্তি আছে, তার চেয়ে বেশি আছে আবেগ। মন্ত্রী বহরে যোগ করতে মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের কথাও তুলছেন চট্টগ্রামের তৃণমূল নেতারা। ত্যাগী নেতা হিসেবে খোরশেদ আলম সুজনের কথাও জোর দিয়ে বলছেন অনেক নেতাকর্মী।

    যাকে নিয়ে এত আলোচনা তার কাছেই এ বিষয়ে জানতে গেলে তিনি বলেন, একটা রাজনৈতিক কর্মীর কাজ যখন মানুষের মনের গভীরে প্রবেশ করে তখন মানুষের মাঝে সে নেতার প্রতি আন্তরিকতা, ভালবাসা জন্মে। আমি এসব মানুষের সম্মান করি। তাদের প্রত্যাশাকে সাধুবাদ জানাই। আমি দলীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে সম্পৃক্ত। বৃহত্তর দলের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ভাবে যে নির্দেশনা আসবে আমি সেভাবেই কাজ করতে চাই।

    খোরশেদ আলম সুজন বলেন, তবে কে কি পদ দিল, নাকি দিলনা আমি সেটাকে প্রধাণ্য দেয় না। নীতি আদর্শের ভেতরে থেকে জনগণের স্বার্থে আমি রাজনীতি করি। এমপি মন্ত্রী হলেই যে জনগণের স্বার্থে দেশের স্বার্থে কাজ করতে পারবে, না হলে পারবে না, আমি এ নীতিতে বিশ্বাস করিনা।

    আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি, এ সুবাধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। জনগণের সেবায় আমার সাধ্যমত কাজ করেছি। আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ জনগণের মধ্যে প্রচারের জন্য জনমুখী বাস্তবায়নের জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

    সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ ভিপি রাজীব হাসান রাজন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. তাইফুল খান।

    বিএম/রাজন/রাজীব…