স্বামীকে জবাই করে হত্যা : স্ত্রী আটক

    মিরসরাই প্রতিনিধি : মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ৩ নং ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামে এক ব্যাক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

    নিহতের নাম সনাতন মজুমদার (৪৫)। গতকাল (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিক তথ্যসূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীকে জবাই করে হত্যা করেছে স্ত্রী। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘাতক স্ত্রী লাকী মজুমদারকে আটক করেছে।

    জানা গেছে, উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার মেয়ে লাকীর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইকেল মিকার সনাতনের। তাদের ঘরে জয়শ্রী মজুমদার শান্তা (১০) ও অপূর্ব মজুমদার (৮) নামে দুটি সন্তান জন্ম হয়।

    গত ২ বছর পূর্বে হঠাৎ স্বামী সন্তান রেখে পরকীয়ার টানে এক পর-পুরুষের হাত ধরে টেকনাফে চলে যায় লাকী। চলে যাওয়ার এক বছর পর সনাতন প্রিয়াংকা নামে অন্য একজনকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। ভালোই যাচ্ছিল সনাতন ও প্রিয়াংকার সংসার। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে হঠাৎ একদিন এসে হাজির হয় লাকি। তখন থেকে প্রিয়াংকা ও লাকির মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকতো। একপর্যায়ে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।

    প্রতিদিন ঝগড়া, হাতাহাতি মারামারি লেগেই থাকতো। এসব ঝগড়াকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (২১ জানুয়ারি) গভীর রাতে স্বামীকে জবাই করে হত্যা করেছে প্রথম স্ত্রী লাখি মজুমদার।

    নিহত সনাতন মজুমদার (৪৫) উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের অনু মিকার বাড়ির ভবরঞ্জনের পুত্র। খুন হওয়া সনাতন মজুমদারের চাচা অমূল্য রঞ্জন মজুমদার বলেন, তাদের পরিবারের সব সময় ঝগড়া বিভেদ লেগে থাকতো। একাধিকবার আমরা তাদের মিমাংসা করেছি। সনাতনও প্রায় সময় নেশা করে এসে স্ত্রীকে মারধর করতো।

    এদিকে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান জানান, নিহত সনাতন মজুমদারের দুই স্ত্রী। সে মাদকাসক্ত হওয়ায় প্রতিরাতে দুই স্ত্রীর সাথে তার ঝগড়া ও কথাকাটাকাটি হয়।

    সোমবার রাতেও কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে প্রথম স্ত্রী দা দিয়ে জবাই করে বাড়ির পাশে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করি এবং প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

    বিএম/আমরাফ/রাজীব…