চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ছিনতাইকারীর কবলে সেনা সদস্য! আটক ২

    সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি : সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে তিন সেনা সদস্য ও তাদের সঙ্গীরা সর্বস্ব হারিয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকালের দিকে সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা তিন সেনা সদস্য ও তাদের কয়েকজন বন্ধু সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়ে বেড়াতে যায়। সেখানে পাহাড়ি নির্জন স্থানে যাবার পর ১০-১৫ জনের মুখোশধারী ছিনতাইকারী দল অস্ত্রের মুখে তাদেরকে জিম্মি করে মোবাইল, নগদ টাকা ইত্যাদি লুটে নিয়ে যায়।

    এতে তারা হতাশ হয়ে ফিরে আসলেও স্থানীয়ভাবে তারা ছিনতাইকারীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকেন। একপর্যায়ে এক যুবককে সন্দেহ করে তারা তাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলে তাদের সাথে দুই ত্রিপুরা যুবকের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

    গতকাল (রবিবার) সেনা সদস্যরা গোপন সূত্রে জানতে পারেন তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল বিক্রির জন্য কয়েকজন সীতাকুণ্ড বাজারের একটি দোকানে যাচ্ছে। এরপর তাদের পিছু নিয়ে এসে দুই ত্রিপুরা যুবককে ছিনতাইকৃত একটি মোবাইল সেটসহ তারা ধরে ফেলেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

    সীতাকুণ্ড থানার ওসি (অপারেশন) জাব্বারুল ইসলাম জানান, সেখানে সেনা সদস্যদের সর্বস্ব লুটে নেয় চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ডাকাত শহীদের দলবল। কিন্তু তারা নিজেরা ছিনতাইকৃত মালামাল বিক্রি না করে দুই ত্রিপুরা যুবকের মাধ্যমে একটি মোবাইল বিক্রির জন্য বাজারে পাঠায়।

    ভুক্তভোগী সেনা সদস্যরা তা জানতে পেরে দুই ত্রিপুরা যুবককে ধরে ফেলেন। আটক দুই ত্রিপুরা যুবক হলো সীতাকুণ্ড পৌরসদরের মধ্যম মহাদেবপুর ত্রিপুরা পাড়ার বিকাশ ত্রিপুরার ছেলে জীবন (১৯) ও সুজন ত্রিপুরার ছেলে মুকুল (১৮)।

    ওসি (অপারেশন) জাব্বারুল ইসলাম আরো জানান, আসলে শহীদের লোকজন পাহাড়ে ছিনতাই করে আবার দুর্গম পাহাড়ে আত্মগোপন করে। ফলে তাদের অবস্থান জানা একটু কঠিন হয়ে যায়। তারা বারবার অপরাধ করেও পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সচেষ্ট আছে।

    সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। আটক দুই যুবককে জেলে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়ে একটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী দল সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রটি এখানে বেড়াতে আসা তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। তারা খুন, ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটাতেও পিছুপা হচ্ছে না। ফলে এই পাহাড়টি এখন ভ্রমণ পিপাসু ও তীর্থযাত্রীদের জন্য আতংকের কারণে পরিণত হয়েছে। এসব ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের কঠোর শাস্তি না হওয়ায় এখানে অপরাধ দিনদিন বাড়ছে।

    এদিকে আগামী ৩-৫ মার্চ শুরু হচ্ছে হিন্দুধর্মাম্বলীদের বৃহত্তম মেলা। উক্ত মেলায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পূর্ণাথীদের ঢল নামে এসময়ে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। মেলাকে ঘিরে এসময়ে ছিনতাইকারীদে তৎপরতা বেড়ে যায়।

    বিএম/কামরুল/রাজীব…