অস্ত্রটি ছাত্রলীগ নেতা জনির নয়, ষড়যন্ত্রের শিকার দাবী পরিবারের : নিঃশর্ত মুক্তি চাই ছাত্রলীগ

    চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রামে ব্যবসায়ির কাছ থেকে চাঁদা দাবিতে সিসিটিভি ফুটেজে প্রদর্শিত অস্ত্রটি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রসংসদ নেতা ফরমান আহমদ জনির নয়, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার ছেলেকে বাঁচাতে জনিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবী জনির পরিবারের।

    ছাত্রলীগ নেতা জনির বড় ভাই রকি জানান, ঘটনা সম্পর্কে আমার ভাই অবগত নয়। অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি প্রদর্শণ করে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার দিদারের সাথে দীর্ঘদিন আগে জনির সম্পর্ক নষ্ট হয়। তাছাড়া আমার ভাইয়ের কাছে অস্ত্রই নেই, সুতরাং দিদারকে চাঁদাবাজি করার জন্য অস্ত্র বিনিময়ের প্রশ্নই আসেনা।

    রকি বলেন, দিদারের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ায় এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে পুর্ব শত্রুতার জেরেই গ্রেফতার দিদার তার স্বীকারোক্তিতে অস্ত্রটির মালিকানা জনির দাবি করেন। মূলত প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার ছেলেকে আড়াল করতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনির উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে বলে দাবী তাদের। সাজানো মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন ছাত্রলীগ নেতা জনির ভাই রকি।

    অন্যদিকে জনির বিরুদ্ধে প্রেরিত সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করে কাল পরশুর মধ্যে আদালতে জামিন আবেদন করার কথা জানিয়েছেন ফরমান আহম্মেদ জনির আইনজীবি নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা জনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সাথে জনির কোন সম্পৃক্ততা ছিলনা। তাকে ইচ্ছেকৃতভাবেই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

    তাছাড়া পুলিশ হেফাজতে নিয়েও জনির উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাদীকে শারিরীক নির্যাতনের বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটকেও অবহিত করেছি।

    এদিকে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রসংসদ প্রতিনিধি ফরমান আহমদ জনিকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা।

    এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামে একসময় শিবিরের দুর্গ খ্যাত চকবাজার এলাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতি করা দুর্বিষহ ছিল। বিগত দিনে শিবিরের হাতে নির্যাতন, হামলা ও হত্যার শিকার হয়েছে অসংখ্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরমুক্ত করার সংগ্রামে সাহসী নেতৃত্বে ছিল ফরমান আহমদ জনি।

    ছাত্রলীগের হয়ে সক্রিয় প্রত্যেক নেতাকর্মী প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিহিংসার নোংরা রাজনীতির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জনি আজ কারাগারে, যা খুবই দুঃখজনক! গত শুক্রবার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এহেন অন্যায় কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রলীগ। অবিলম্বে জনির মুক্তি ও সাজানো মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে রাজপথে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জনির গ্রেফতার নিয়ে গণমাধ্যমে মনগড়া ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ না করে অনুসন্ধান পূর্বক সত্য ঘটনা প্রকাশের জন্য সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

    বিবৃতি দাতারা হলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আ ফ ম সাইফুদ্দিন, ফারুক ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী রনি, সহ সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ, সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল খালেক, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল করিম, আব্দুল্লাহ আল হাসান শুভ, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা, রুবাইয়েত হোসেন অনিক, ইফতেখার রানা, সাজিদ সাঈম, আসিফ জাহিদ ঈশাণ, সাকিব হোসাইন, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন ও তানভির নিরব।

    এর আগে গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর শোলকবহর আল মাদানী লেইনে পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে স্থানীয় যুবক দিদারুল আলম দিদার প্রকাশ দিদারুল আলম রিগানের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন মেট্রো এসেট নামের আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।

    সেদিন অস্ত্রহাতে লাল সার্ট পরিহিত দিদারের সংঘটিত ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমে। সংবাদ প্রকাশ হয়। ৭ মার্চ লোহাগাড়ার নিজ বাড়ি থেকে দিদারকে গ্রেফতার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে দিদার অস্ত্রটি সে চকবাজার এলাকার জনৈক জনির কাছ থেকে এনে ব্যবহার করেছিলো এবং ঘটনার পর অস্ত্রটি জনিকে ফেরত দেয়া হয়।

    পরবর্তীতে দিদারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা তেকে জনিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অস্ত্রটি উদ্ধারে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে প্রেরণ করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

    বিএম/তাইফুল/রাজীব…