বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোনের পুরস্কার পেল চট্টগ্রামের ৫ হাজার ২১০ জন শিক্ষার্থী

সিটি করপোরেশন মেইল : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের দিনব্যাপী দু’পর্বের বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় আজ শুক্রবার।

সকালে নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ফুলের মালা দিয়ে তৈরি ফিতা কেটে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাসির উদ্দীন ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

এসময় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য এ উৎসবে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ২১০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় পুরষ্কার প্রদান করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত চট্টগ্রাম মহানগরীতে দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণ উৎসবের দু’পর্বে ৮৮টি স্কুলের পুরস্কার বিজয়ী মোট ৫২১০ জন শিক্ষার্থীকে স্বাগত পুরস্কার, শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরাপাঠক পুরস্কার এই চারটি ধাপে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

আজ সকালে প্রথমপর্বে ৪৪টি স্কুলের ২৬০৬জন শিক্ষার্থীকে, দ্বিতীয়পর্বে ৪৪টি স্কুলের ২৬০৪ জনসহ মোট ৮৮টি স্কুলের ৫২১০জনকে পুরস্কার দেয়া হয়। লটারির মাধ্যমে প্রতি ১০জন সেরা পাঠক পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্য থেকে ১জন করে মোট ৬ জনকে ২০০০ টাকা সমমূল্যের বইয়ের বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও লটারির মাধ্যমে প্রতিপর্বে ২ জন করে মোট ৪ জন অভিভাবককে ২০০০ টাকা সমমূল্যের বইয়ের বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাসির উদ্দীন প্রথমেই পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

তিনি উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের সন্তানেরা আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে আলোকিত মানুষ হতে পারে, সেজন্য সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পাশাপাশি বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ বই পড়ার মাধ্যমেই মানুষের ভিতর সত্যিকারের মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। আর মূল্যবোধই পারে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পৃথিবীতে দু’রকমের মানুষ রয়েছে- উচ্চতর মানুষ আর নিম্নতর মানুষ। আমরা উচ্চতর মানুষের আরেক নাম দিয়েছি আলোকিত মানুষ। সমবেত শিক্ষার্থীদের তিনি আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য বেশি বেশি জ্ঞান অর্জন করার পরামর্শ দেন।

বিশিষ্ট শিশু-সাহিত্যিক আলী ইমাম পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বই পড়ে তুমি যেমন কোটি কোটি আলোকবর্ষ দুরে মহাবিশ্বের খবর জানতে পারবে, সমুদ্রের তলদেশের খবরও জানতে পারবে। কাজেই জানতে হলে বেশি বেশি বই পড়তে হবে ।

গ্রামীণফোনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের রিজিওনাল হেড অব অপারেশনস ফিরোজ উদ্দিন বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কার্যক্রমের সাথে গ্রামীণফোন যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত। তিনি আরো বলেন বই হচ্ছে জ্ঞানগর্ভ। ভালো এবং বেশি বেশি বই পড়তে হবে আর সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারলে সফলতা নিশ্চিত। সে লক্ষ্যে সবার জন্যে চমৎকার সব বইয়ের একটি ই-লাইব্রেরি তৈরি করেছে গ্রামীণফোন এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যৌথ উদ্যোগে। আগ্রহী পাঠকগণ পছন্দের বই পড়তে পারবেন ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক ও অধ্যাপক আল আলীম স্বাগত বক্তব্যে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং উৎসব আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক [প্রোগ্রাম] মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন। দিনব্যাপী উৎসবের এ বিশাল আয়োজনে সহযোগিতা করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সাহেদুল কবির চৌধুরী, চট্টগ্রাম লেখক-সাহিত্যিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম একাডেমির মহাপরিচালক অরুন শীল, চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক ও অধ্যাপক আলেক্স আলীম উপস্থিত ছিলেন।

বিএম/রাজীব সেন