উপজেলা নির্বাচন : চন্দনাইশে গুলিবিদ্ধ পুলিশ, পটিয়ায় আটক জাল ভোটার : শান্ত বাঁশখালী ও বোয়ালখালী

চট্টগ্রাম মেইল : পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে ৩য় ধাপে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সোমবার সকাল ৮ টা থেকে। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলা চন্দনাইশে ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন আহত হয়েছে। পটিয়ায় জাল ভোট দিতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে এক এস এস সি পরীক্ষার্থীসহ চার জন। তাছাড়া উপজেলা বাঁশখালি ও বোয়ালখালিতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বড় কোন সংঘাত বা বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ভোট শুরুর দেড় ঘণ্টার মাথায় চন্দনাইশে ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ পুলিশ সদস্যসহ দুজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তথ্যটি নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেশব চক্রবর্তী বলেন, রবিবার ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার দেড় ঘন্টা পর সাড়ে ৯টার দিকে চন্দনাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবেই ভোট গ্রহণ চলছিল। হঠাৎ শ খানেক লোক একত্রিত হয়ে বুথে প্রবেশ করে ভোট কেন্দ্র দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ তাদের বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়লেও ভোট কেন্দ্র দখলে নিতে আসা দুবৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে পিছু হটে তারা। পরে ঘটনাস্থল থেকে ফরহাদ হোসেন (৩০) নামে এক পুলিশ সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমসহ আরো অন্তত চারজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়ে ওসি বলেন, দুই পুলিশ সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করেছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল জানিয়েছে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে জানা যায় গোলাগুলির ঘটনার পর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০ টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ৪০ মিনিট ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু করে।

চন্দনাইশে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতিকে লড়ছেন একেএম নাজিম উদ্দীন। দোয়াত কলম প্রতিক নিয়ে তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে আছেন এলডিপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী।

এর আগে গতকাল রাতে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে উপজেলার খান হাট এলাকায় একটি নির্বাচনী গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফারুক। অভিযানের খবর জানতে পেরে বৈঠকে অবস্থান কারীরা পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল রাম দা, ছোরা, শাবল, কাস্তে, রড় ও লাঠি।

এদিকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা পর সকাল ১০ টার সময় পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের পূর্ব রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে ৪ জন জাল ভোটারকে আটক করার তথ্য জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা।

তিনি বলেন, সকাল ১০ টার দিকে ভোট দিতে আসা চারজনের গতিবিধি সন্দেহ হলে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে তারা ওই এলাকার ভোটার নন। পরে তাদেরকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। আটক চার জাল ভোটারের মধ্যে মো. ইমরান নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীও রয়েছে। এছাড়া অন্য তিনজন হলেন রুবেল আলম, আবির হোসেন ও বোরহান উদ্দিন। নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম কিংবা বিশৃঙ্খলা ও জাল ভোট রোধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানালেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা।

পটিয়ায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, দলের নেত্রী ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলিও লড়ছেন চেয়ারম্যান পদে। তাছাড়া যুবলীগের চট্টগ্রাম নগর সদস্য সাজ্জাদ হোসেনও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

তাছাড়া বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বোয়ালখালি ও বাঁশখালীতে উপজেলা নির্বাচনের কোন সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলতার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট গ্রহণ চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বোয়ালখালীতে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলায় এক লাখ ৮০ হাজার ২৬৫ জন ভোটার ৭৭ ভোটকেন্দ্রের ৫৪৪ কক্ষে ভোট প্রদান করে তাদের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচন করবেন।

এ উপজেলায় এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলমের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে।

এদিকে ৫ম উপজেলা নির্বাচনের ৩য় ধাপে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিনজন। আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সোলতানুল কবির চৌধুরীর বড় ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মৌলভী নুর হোসেনও লড়াই করছেন চেয়ারম্যান পদে।

বিএম/রাজীব সেন…