শাহনাজ রহমতুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

বিনোদন ডেস্ক : শাহনাজ রহমতুল্লাহ’র মেয়ে নাহিদ রহমতুল্লাহ থাকেন লন্ডনে। ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমতুল্লাহ থাকেন কানাডায়। তাদের দেশে ফেরার টিকেট পাওয়া নিয়ে নিশ্চয়তা নেই। তাই অপেক্ষা না করে ২৪ মার্চ, রবিবার বাদ জোহর বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানীর সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহকে।

এর আগে আজ বাদ জোহর বারিধারার ৯ নম্বর রোডের পার্ক মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শাহনাজ রহমতুল্লাহর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবুল বাশার রহমতুল্লাহ বলেন, ‘যে চলে গিয়েছে তাকে তো আর ফেরানো যাবে না। ছেলে কবে আসতে পারছে তার নিশ্চয়তা নেই। কারণ ওর টিকিট পাওয়ার বিষয় আছে। সে এলে দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।’

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারিধারায় নিজ বাসায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা গেছেন এই নন্দিত শিল্পী। সে সময় তার পাশে ছিলেন স্বামী আবুল বাশার রহমতুল্লাহ।

দীর্ঘ ৫০ বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন এই গুণী শিল্পী। ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্তির পর গান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। এ ছাড়া গান থেকে বিদায় নেওয়ার আরও একটি কারণ হলো ধর্মপরায়ণ জীবন বেছে নেওয়া।
শাহনাজ রহমতুল্লাহর জন্ম ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারি ঢাকায়। শিশুকালে মা আসিয়া হকের মাধ্যমেই গানের জগতের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। তবে গুরু হিসেবে পেয়েছিলেন প্রখ্যাত গজলশিল্পী ওস্তাদ মেহেদী হাসানকে। তার কাছ থেকেই গজলের তালিম নেন কিংবদন্তি এই শিল্পী।

১৯৬৩ সালে মাত্র এগারো বছর বয়সে ‘নতুন সুর’ নামের একটি চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়ে প্লে-ব্যাক ক্যারিয়ারের সূচনা করেন তিনি। শিল্পী হিসাবে তখন থেকেই খ্যাতি পাওয়া শুরু করেন শাহনাজ। এর ঠিক এক বছর পরই টেলিভিশনে তার যাত্রা শুরু হয়।

গানের জগতে ৫০ বছরে শাহনাজ রহমতুল্লাহর চারটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমটি ছিল প্রণব ঘোষের সুরে ‘বারটি বছর পরে’, তারপর প্রকাশিত হয় আলাউদ্দীন আলীর সুরে ‘শুধু কি আমার ভুল’।

বিএম/রনী/রাজীব