ফেসবুকের মাধ্যমে হারানো শিশু খুঁজে পেল মায়ের কোল

বিএম ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী অজ্ঞাত শিশু ফিরে পেয়েছে তার পরিচয়।

আড়াই মাস পূর্বে শিশুটিকে কতিপয় ব্যাক্তিদয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে যান। এরপর থেকে অজ্ঞাত রোগীর সেবক মো: নেছার ও তার সদস্যবৃন্দ শিশুটির দেখাশুনা করতে থাকেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে বসবাসরত ইয়াসিন নামের এক শিশু ট্রেন দূর্ঘটনায় আহত হয়েছিল। তাকে দেখতে গিয়ে আলোর আশা ফাউন্ডেশন এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মুরাদ শামসুল আলম খাঁন শিশুটির বিষয়ে জানতে পারেন। শিশুটির আচরণে মনে হয়েছে সে ভালোবাসা পাগল একটি শিশু ভালোবাস চায় সকলের নিকট। এরপর মুরাদ শামসুল আলম খাঁন তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে লিখালিখি করেন এবং যা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জায়গায়। যার মাধ্যমে অজ্ঞাত সেই ছেলেটি পরিবারকে খুজে পেয়েছে তার মাকে।

গতকাল শিশুটির মা ও বোন এসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার পরিচয় সনাক্ত করেন এবং তার নাম ইব্রাহীম বলে জানান৷

হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেয়ে জড়িয়ে কান্না করতে থাকেন মা এবং বোন তখন এক হৃদয় বিদারক উপরিস্থিত সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, ৩ মাস আগে হারিয়ে গিয়েছিলো ছেলেটি। সন্তানকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করেছিলো পরিবার। ফেনী, দাগুনভূঞাঁ, দুদমুখা, কবিরহাট, বসুরহাট সহ বিভিন্ন জায়গায় তারা খুঁজে না পেয়ে ধরে নিয়েছিল শিশুটি মারা গিয়েছে।

ছেলেটিকে গত ১৩.১.২০১৯ ইং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ২৮ নং ওয়ার্ডে অজ্ঞাত পরিচয়ে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তার পরিচয় মোঃ ইব্রাহীম হোসেন, বাবার নাম:বাহার উদ্দিন,মাতার নাম:রোকেয়া বেগম,গ্রাম:আইয়ুবপুর,পোস্ট:দিনমনিরহাট,থানা:সুধারাম,জেলা:নোয়াখালী। শিশুটির বাবা ওর জন্মের তিন মাস পর মারা যান।মৃত্যু কালে চার সন্তান রেখে যান। বিউটি, রোকসানা, সুজন ও ইব্রাহীম। বিগত ১৫ বছর তিনি ভিক্ষা করে ছেলে মেয়েদের বড় করেন রোকেয়া বেগম।

শিশুটির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে আলোর আশা

তাদের পারিবারিক ইতিহাস জেনে আলোর আশা ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগীতা করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশুটি তার মায়ের কোল ফিরে ফিয়েছে। যারা শিশুটির পরিচয় খুজে পেতে সহযোগীতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুরাদ শামসুল আলম খাঁন।

বিএম/রনী/রাজীব