চট্টগ্রামবাসীর শ্রদ্ধার ফুলে সেজেছে শহীদ মিনার : নানা আয়োজনে শহীদদের স্মরণ

চট্টগ্রাম মেইল : পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সর্বস্থরের মানুষ বিনম্র চিত্তে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামে সর্বস্থরের মানুষের।

ফুলে ফুলে সেজেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ বেদী। তাছাড়া কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার সময় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিনম্র চিত্তে স্মরণ করে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বাঙালির মুক্তির দিন মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

এরপর একে একে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ ডা. আফছারুল আমীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান|

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর,উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ, সিপিবি, যুব ইউনিয়ন, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জীবন বীমা করপোরেশন, পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চল ও মহানগর।

ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্থরের হাজারো মানুষের ঢল নামে।

বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাদ পড়েনি নারী-শিশুরাও। অনেকেরই পরনে ছিল লাল-সবুজের পোশাক। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনার এবং এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ।

স্বাধীনতা দিবসের নানান কর্মসূচি : যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নানা কর্মসুচিতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে চট্টগ্রাম বাসী। দিবসটি উদযাপনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আয়োজনের শুরুতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁরই আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাস হৃদয়ে ধারণ করে খারাপ সংস্কৃতিকে বিদায় জানানোর আহবান জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৭ বছর বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে দরিদ্র দেশ ছিল। কিন্তু এখন বাংলাদশে উন্নয়নের রোল মডেল ও অর্থনীতির ইমার্জিং টাইগার।

এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডিসপ্লেতে তুলে আনা হয় বাংলাদেশ স্বাধীনতার আদ্যপ্রান্ত। ডিসপ্লে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন জেলা প্রশাসন। অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ গোলাম ফারুক, নগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমানসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী স্কুল শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করেন বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান।

বাকলিয়া স্টেডিয়ামে চসিকের আয়োজ : এদিকে বাকলিয়া স্টেডিয়ামে চসিকের উদ্দ্যেগে পৃথকভাবে উদযাপিত হয় স্বাধীনতা দিবস। সেখানেও চসিকের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠান প্রদর্শিত হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংগীত পরিবেশন সম্প্রচার হয় বাকলিয়া স্টেডিয়ামে।

সকল স্কুল শিক্ষার্থীদের সাথে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনে অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। পরে তিনি কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এতে চসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও চসিকের কর্মকর্তারা এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে তা পালন করছে।

বিএম/রাজীব সেন প্রিন্স..