চট্টগ্রামের ৯ গুণী ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করল চসিক

চট্টগ্রাম মেইল : জাতীয় পর্যায়ে স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিরল অবদান রাখার জন্য চট্টগ্রামের ৯ গুণী ব্যক্তিকে স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক প্রদান করল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ৯ গুণী ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের হাতে পদক তুলে দেন।

সম্মাননা পদক প্রাপ্ত হলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে অধ্যাপক এস.এম. আবু তাহের রিজভী (মরণোত্তর), শিক্ষা ক্ষেত্রে মোহাম্মদ মনজুর আলম,চিকিৎসায় ডাক্তার সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারী, ক্রীড়ায় মীর্জা সালমান ইস্পাহানি,সমাজ সেবায় গোলাম মোস্তাফা কাঞ্চন, সংগীতে অশোক সেন গুপ্ত (মরণোত্তর), সাংস্কৃতিক সংগঠক রণজিৎ রক্ষিত (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় আবু তাহের মুহাম্মদ, মুক্তিযুদ্ধে আবদুল কাদের মাষ্টার (মরণোত্তর)।

অধ্যাপক এস.এম. আবু তাহের রিজভীর পক্ষে মেয়ের জামাতা শামসুর রহমান, মোহাম্মদ মনজুর আলম এর পক্ষে তার ছেলে সাইফুল আলম, ডাক্তার সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারীর পক্ষে ডাক্তার শাহাজাদা সৈয়দ হোসেন, মীর্জা সালমান ইস্পাহানির পক্ষে মিনহাজ উদ্দিন আহমদ, অশোক সেন গুপ্তর পক্ষে তার স্ত্রী রত্না সেন, আবদুল কাদের মাষ্টার, রণজিৎ রক্ষিত এর পক্ষে তাদের প্রতিনিধি এবং গোলাম মোস্তাফা কাঞ্চন ও আবু তাহের মুহাম্মদ নিজেই পদক গ্রহন করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চসিক প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী এবং পদক গ্রহন করে অনুভুতি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ গোলাম মোস্তফা কাঞ্চন, সাংবাদিক আবু তাহের মুহাম্মদ,আবদুল হালিম দোভাষ,মিনহাজ উদ্দিন আহমদ,ডাক্তার শাহজাদা সৈয়দ হোসেন,সাইফুল আলম,শামসুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিক আবু তাহের মুহাম্মদ বলেন তাঁকে স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদকে ভূষিত করায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা যুদ্ধের মুলমন্ত্র। এর মাধ্যমেই এদেশের নিরস্ত্র জনতা যুদ্ধে ঝঁপিয়ে পড়েছিল। ৯ মাসব্যপী রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির মতো এই শ্লোগানটি অফিস পাড়ায় টাঙানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালির ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জল গুরুত্বপূর্ণ দিবস। স্বাধীনতার সূচনা থেকে এ পর্যন্ত যারা দেশের জন্য অবদান রেখেছেন তাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মেয়র। তিনি বলেন স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশ একটি শক্ত ভিতের উপর দাঁড়ালেও যে আশা আকাংখা নিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই আশা আকাংখা পূরণ করতে আরও বহুপথ পাড়ি দিতে হবে।

সেই আশা-আকাংখা পথ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে সেই ক্ষুধা -দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। তিনি বলেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় পরিচালিত হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন বিশ্ববাসীর কাছে রোল মডেল।

সাংবাদিক আবু তাহের মুহাম্মদের বক্তব্যের জের টেনে সিটি মেয়র বলেন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি দপ্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙানো বাধ্যতামূলক। তবে জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানটি সরকারী, বেসরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে টাঙানো হলে আমাদের স্বাধীনতা অর্থবহ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরে মেয়র স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত চিত্রাংকন, রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, লোকসংগীত ও দেশের গান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বিএম/রাজীব সেন….