কক্সবাজারে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪

বিএম ডেস্ক : কক্সবাজারের টেকনাফ ও পেকুয়ায় পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারিসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় এক লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮টি অস্ত্র ও ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার ভোরে বিজিবি ও র‍্যাবের সঙ্গে পৃথক এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

টেকনাফের ২নং ব্যাটালিয়ন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, রাতে বিজিবির একটি দল নিয়মিত অভিযানে যায়। এ সময় টেকনাফ উপজেলার খারাংখালীর নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে দুইজন ব্যক্তি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। কর্তব্যরত বিজিবির সদস্যরা তাদের বাধা দিলে বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা।

এ সময় আত্মরক্ষার জন্য বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর গুলির আওয়াজ থেমে গেলে ঘটনাস্থলে দু’জনের গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখে। তাদের সঙ্গে থাকা পুটলি তল্লাশি করে এক লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে সকালে মরদেহগুলো নিয়ে যায় তারা।

টেকনাফে নিহতরা হলেন- কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস (১৮) ও বালুখালী ক্যাম্পের মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. ফারুক মিয়া। তাদের গলায় রোহিঙ্গা কার্ড ছিল। তারা দুজনই কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের ঘটনায় তারা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু তখন থেকে মিয়ানমারের আসা যাওয়া করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।

টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এসএম দোহা জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বিজিবি বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

অপরদিকে কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার মগনামা ঘাট এলাকায় র‍্যাব এর টহল দলের সঙ্গে জলদস্যুদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জলদস্যু নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিপিএসসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, পেকুয়ার মগনামা ঘাট এলাকায় কিছু জলদস্যু অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে এমন আসে। পরে সেখানে অভিযানে যায় র‌্যাব। এ সময় র‌্যাবের অবস্থান টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে তারা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে দুই জলদস্যুর লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পেকুয়া থানা পুলিশের ওসি জাকির হোসেন ভুঁইয়া জানান, নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পরিচয় জানার চেষ্টাও অব্যহত রয়েছে।

বিএম/রনী/রাজীব