সিআরবি’র আতঙ্ক পাখি হিজড়া আটক : মুচলেখায় মুক্ত

চট্টগ্রাম মেইল : ছোট ছোট পাহাড় আর সারি সারি গাছ ও রেলওয়ের দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক ছোঁয়ায় গড়ে উঠা চট্টগ্রামের সিআরবি বিনোদন কেন্দ্রটিতে প্রতিদিনই সমাগম ঘটে শত শত বিনোদন প্রেমীর।

ফ্রিতে খোলা আকাশের নিচে গাছের ছায়ায় বসে গল্প করার উত্তম স্থান বলেই এখানে প্রতিদিন ভিড় করে নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রীসহ দর্শনার্থীরা।

অতচ একসময় এ স্থানে ছিনতাই ও বখাটের উৎপাত ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বর্তমানে প্রশাসনের কঠোর নজরদাড়িতে তা শুণ্যের কোঠায় নেমে আসলেও বেশ কিছুদিন ধরে উৎপাত বেড়েছে পাখি নামের এক হিজড়ার। তার হাতে প্রতিনিয়ত হেনস্থা ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আসছিল দর্শনার্থীরা।

দিন দিন সিআরবি এলাকায় আলোচিত ও আতঙ্কিত নামে পরিণত হয় পাখি। তার চাহিদামত চাঁদা না দিলে অশ্লিল অঙ্গভঙ্গি এমনকি শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেকে। পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে বেড়াতে আসা অনেকেই তার চাঁদাবাজি ও অশ্লিলতায় অতিষ্ঠ হয়ে টহলে থাকা প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। পরবর্তীতে পাখি হিজরার হাত থেকে রক্ষার জন্য ভুক্তভোগীরা সিআরবিতে মানববন্ধন করে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

অবশেষে একাধিক ভুক্তবোগীর মৌখিক অভিযোগ পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহসিন পাখি হিজড়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে তার থানার একটি টিমকে দায়িত্ব দেন।

মঙ্গলবার সিআরবি ফাাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুজ্জানের নেতৃত্বে কোতেয়ালী থানা পুলিশ পাখিকে গ্রেফতার করে। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দ্দিষ্ট কোন লিখিত অভিযোগ না থাকায় সিআরবি এলাকায় পাখি আর আসবে না মর্মে লিখিত মুছলেখা নিয়ে প্রথমবারের মত সতর্ক করে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ

এ ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসীন বলেন, সিআরবি এলাকায় হিজড়া পাখির কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ কয়েকজন ভুক্তভোগী মৌখিকভাবে আমাকে তার কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত করে। মৌখিক অভিযোগের ঘটনার সত্যতা পেয়ে মঙ্গলবার রাতে সিআরবি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর পাখি হিজড়াও স্বীকার করে নেন তার সকল অপরাধ।

ওসি মহসিন বলেন, তার বিরুদ্ধে কারো কোন সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা না থাকায় প্রথমবার তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি মুচলেকা দিয়েছেন, সিআরবি এলাকায় তিনি আর আসবেন না। কাউকে বিরক্ত বা বিব্রত করবেন না। সাহায্যের নামে চাঁদাবাজিও করবেন না। তব্ওু কেউ যদি তাকে পুনরায় একই এলাকায় একই কাজে দেখেন তাহলে তথ্য ও প্রমানসহ থানায় জানানোর জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ মোহসিন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রামের সভাপতি আমিনুল হক বাবু বলেন, হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের সন্মান আছে। কিন্তু ইদানিং কালে সিআরবিসহ চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের অত্যচার নিপীড়ন বেড়ে যায়। জোরপূর্বক নির্দ্দিষ্ট হারে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করে আসছে। না দিলে নানারকম শারীরিক অশ্লিল অঙ্ভঙ্গিসহ হেনস্থায় ফেলে ব্যবসায়ি ও সাধারণ মানুষকে।

তিনি বলেন, হিজড়াদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের সুন্দর জীবন যাপনে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসলে হয়তো তাদের নিপীড়নের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

বিএম/রাজীব সেন প্রিন্স….