অগ্নিকান্ডে নিহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করুন : মান্না

বিএম ডেস্ক : রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪০ জনের অধিক দাবি করে সঠিক সংখ্যা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় সরকারের নিন্দা জ্ঞাপন করে কেউ তো কোনো বিবৃতি দেয়নি, কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে ফায়ার ব্রিগেডের সংখ্যা কমানোর কারণ কি? যারা এর তদন্তের রয়েছেন তাদের বলি মৃতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করুন। এতে কোনো লজ্জা নাই।’

শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে চেতনা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে ১৯ জন নিহতের খবর পেয়ে সেখানে গেলাম। সেখান থেকে কয়েকজন বললো ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অন্তত ১৭-১৮টি লাশ ভেতরে পড়ে আছে। তাহলে তো সব মিলিয়ে ৪০ জনের বেশি হলো।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এই ভবনটার দিকে খেয়াল রাখতো দেখতে পেতো এর চারপাশে বহুতল ভবনগুলো কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই গড়ে উঠছে। অথচ কোনো বিল্ডিং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না রেখে অনুমতি পেতে পারে না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুব বলে বেড়ান অগ্নি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করছেন। বলছেন আগুন সন্ত্রাসীদের নেত্রীকে জেলে পুরেছি। চতুর দিকে তাকালে মানুষ আগুনের লেলিহানের শিকার দেখেছে এই সরকারের আমলে। সবচেয়ে বেশি মানুষ পুরে মরেছে এই সরকারে আমলে। সে বিষয়ে তারা কিছু বলছেন না।’

মান্না বলেন, ‘আজকে আমাদের অনেকেই বলেন- ২০১৮ সালের নির্বাাচনে গেলাম কেন? আমি বলি আমরা যদি এ নির্বাচনে যোগ না দিতাম তাহলে পাল্টা আন্দোলন করতে পারতেন? সরকারকে ফেলে দিতে পারতেন? আর এখন কি পারছেন? আমি মনে করি এবার নির্বাচনে সকল দলের অংশ্রগ্রহণে প্রমানিত হয়েছে সরকার ডাকাতি করেছে।’

‘২০১৪ সালে তথাকথিত নির্বাচনের পর মানুষ বলেছিল বিএনপির আসে নাই কি করবে। কিন্তু এবার সকল দল নির্বাচনে আসার পর রাতের বেলা যে ভোট ডাকাতি হলো। মানুষ তার প্রতিবাদ করছে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে ভোট না দিয়ে।’

চেতনা বাংলাদেশের সভাপতি ও দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শামীমা রহিমের সভাপতিত্বে ও কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, বগুড়া-৪ সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

বিএম/রনী/রাজীব