আওয়ামীলীগ-বিএনপি উভয়েই বুর্জোয়াদের রক্ষক! বিকল্প কি?

সব্যসাচী ইমন : সড়কে সমস্যা,খাদ্যে সমস্যা,বিচারহীনতার সমস্যা,নিজস্ব স্বাধীন মত ব্যক্ত করতে সমস্যা,মৌলবাদের সমস্যা,মাত্রাতিরিক্ত চেতনার সমস্যা!

যেদিকে থাকায় সেদিকেই সমস্যা! গোটা দেশের পরতে পরতেই সমস্যা! অথচ এই স্বাধীন দেশটা প্রতিষ্ঠা পরবর্তী এসব দেখার কথা আমাদের ছিলোনা। স্বাধীনতার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে এটাই কথা ছিলো!

প্রশ্ন -সমস্যার উৎস কোথা থেকে?এর সমাধান কি?

ধরুণ আপনি গরু পালন করেন! এখন সেই গরু থেকে দুধ পাবেন, জৈব সার পাবেন, হাল চাষ করতে পারবেন, মাংস পাবেন এতোটুকুই তো! আপনি যদি এখন এই গরু চড়ে মহাকাশ পাড়ি দেওয়ার আশা ব্যক্ত করবেন নিশ্চই সেটা অবান্তর এবং গলদঘর্ম মূর্খতার পরিচয় বা আপনার এই পালিত গরু আপনার জীবনের যাবতীয় সকল সমস্যার সমাধান করবে সেটাও অবাঞ্চিত কোনো প্রত্যাশা!

তদরূপ একটা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু মূল মতাদর্শ থাকে! এরা ক্ষমতা দখল পরবর্তী যতই দেশের কল্যাণে কাজ করুক তার মাত্রাটা তাদের অনুসৃত মতাদর্শের বাইরে যাওয়াটা কোনোভাবেই সম্ভব নয় এবং এটাই চির সত্য! এই যে গরুর গল্প এবং তার কার্যাবলী শুনালাম তার সাথে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি এই দুটো দলেরই পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান!

উপরোক্ত কথিত পালিত গরু যেমন তার যোগ্যতার বাইরে কোনো প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে পারবেনা তদরূপ এই আওয়ামীলীগ, বিএনপি দুটো দলও তাদের অনুসৃত মতাদর্শের বাইরে গিয়ে কোনোদিনও কোনোরূপ সুযোগ সুবিধা এই দেশের সাধারণ জনগণদের প্রদান করতে পারবে না!

এই আওয়ামীলীগ বলেন বিএনপি বলেন এরা উভয়েই বুর্জোয়া মতাদর্শের অনুসারী! পার্থক্যটা কেবল সুযোগ বুঝে কেউ প্রতিক্রিয়াশীলদের পাশে নিয়ে আবার কেউ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুসারী বলে সাধারণ জনগণের মাথা বিকিয়ে ক্ষমতা দখল করণের ক্ষেত্রে!

মুূলত এই প্রধান কথিত জনপ্রিয় উভয় দলই বুর্জোয়াদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত ও বুর্জোয়াদের স্বার্থেই প্রতিষ্ঠিত দুটো দল! বুর্জোয়ারা চাইলেই এদেরকে অপসরণ করতে পারেন আবার এরা চাইলে ক্ষমতা দখলও করে দিতে পারেন! উভয় দলই ক্ষমতায় যেয়ে বুর্জোয়াদের স্বার্থ রক্ষা করবেন এটাই পূর্ব নির্ধারিত! এই কথিত বুর্জোয়াদের স্বার্থ বজায় রেখেই যদি কিছু জনকল্যাণ মূলক কাজ করা যায় তবে তারা তাই করতে পারবে!

বুর্জোয়াদের স্বার্থে আঘাত লাগে এমন কোনো জনকল্যাণমূলক কাজ এরা যতই করতে আগ্রহী হউক না কেনো বাস্তবে তা কার্যকরণ করা এ দুটো কথিত জনপ্রিয় দলের কাছে কখনো সম্ভব না!

অতীত ইতিহাস বিচার করলে কি তা স্পষ্ট ভাবে ধারা দেয় না?! দুটো দলই ক্ষমতায় গিয়ে কি কখনো সাধারণ জনগণের কিঞ্চিৎ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছে? উভয় দলের শাসনকালে একটা সময় নানান সমস্যায় জর্জরিতবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে বিকল্প খুঁজতে গিয়ে একটার পর একটা দলকে ক্ষমতায় প্রত্যাশা করেছে সাধারণ জনগণ!

বারবার মনে করেছে বিএনপি যেহেতু কিছুই সমাধান করতে পারছেনা বরং সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে এবার আওয়ামীলীগই প্রত্যাশিত আবার আওয়ামীলীগেরই যখন একই অবস্থা তখন সাধারণ জনগণ হতাশ হয়ে একের পর এক বিকল্প খু্ঁজেছে!

বরাবরই হতাশাজনক! কিন্তু সাধারণ মানুষ বারবার এদুটো দলের নিকট ভালো কিছু প্রত্যাশা করলেও কেনো তারা বরাবরই ব্যর্থ এটা বুঝতে সক্ষম নয় বলে প্রকৃত বিকল্পকে বেঁচে নিতে পারছে না! অবশ্য সেই বিকল্প নির্ধারণে উচ্চ সচেতনতা অর্জন ব্যতীত সাধারণ নাগরিকের পক্ষে সম্ভব নয়!

বড় বড় বুর্জেয়ারা কোটি কোটি টাকা ঋণ খেলাপির দায়ে, ব্যাংক লুটের দায়ে, অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে বিরাট অট্টালিকা স্থাপন করে মানুষ মারার দায়সহ নানাবিধ দায়ে অভিযুক্ত! কখনো কি শুনেছেন এসব অভিযুক্তের কাউকেই আইনের নিকট ধারস্থ হতে হয়েছে?!বরং তাদের সেই অভিযোগ স্মিত করতে তাদেরকে আরো নানান সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে যেনো তারা শান্তভাবে যদি কিছু দায় এড়ায়! কিন্তু এদুটো দলের সরকারের পক্ষে কখনো এইসব অভিযুক্তদের আইনের নিকট সোপর্দ করতে বাধ্য করার সাহস হয়নি!
না হওয়াটাই স্বাভাবিক। বরং যখনই এইসব বুর্জেয়াদের উপর প্রেসার আরোপ করবেন দেখবেন তদীয় মুহূর্তেই এইসব সরকারের ক্ষমতার গদিতে কাঁপন ধরবে!

আবার দেখবেন বিদেশী বুর্জোয়াদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই উভয়ই দলই সাধারণ জনগণের ক্ষতির কথা চিন্তা না করেই রামপাল পরিকল্পনার মতো একের পর এক বিধ্বংসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন! জনগণ এসবের যতই বিরোধীতা করুক না কেনো এইসব দলীয় সরকারের পক্ষে জনগণের ইচ্ছা পূরণ করার সামর্থ্য নেই! উভয় সরকারকেই বুর্জেয়াদের মন রক্ষার্থে শতশত জনকল্যাণ বিধ্বংসী কার্যবালী বাস্তবায়ন করে যেতে হয়! কারণ তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন এই দেশী বিদেশী বুর্জোয়ারা!

অথচ একজন সাধারণ কৃষক যখন উচ্চ সুদের হারের মাত্র কুড়ি হাজার টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়না তখন তাকে ধরে বেঁধে আইনের নিকট সোপর্দ করে নানান শাস্তির রায় দেওয়া হয়! আর উভয় দলই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে বলে সোল্লাসে উজাড় করে! লক্ষ্যণীয় বিষয় যে তাদের সকল সুশাসন কেবলমাত্র আমরা গরিবদের বেলায়!

প্রতি সরকারই জনগণের মৌলিক সমাধান তো দূরের কথা বরং বুর্জোয়াদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আরো নানবিধ সমস্যা সৃষ্টি করতে করতে জনগণকে অতিষ্ঠ করে ফেলছেন!

বুর্জোয়ারাই নিয়ন্ত্রণ করে একেক জায়গায় উভয় দলের সাংসাদ পদপ্রার্থী কে হবেন!
এবং যে দলের সাংসদই নির্বাচিত হউক না কেনো উভয়েই বুর্জোয়াদের স্বার্থে কাজ করবেন এটাই পূর্ব নির্ধারিত! এভাবে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পরতে পরতে বুর্জোয়াদের স্বার্থেই কথিত নির্বাচিতরা কাজ করে যাবে এবং এর কোনোপ্রকার হেরপের ঘটলেই ক্ষমতার আসন নড়ে উঠতে বাধ্য!

সংবিধানের একটি মূলনীতি হচ্ছে সমাজতন্ত্র। যে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের সকল নাগরিকের সমাধিকার প্রতিষ্ঠা করা! এই নীতি, এই আদর্শ উভয় দলই সংবিধানেই সীমাবদ্ধ রেখেছে কেবল বাস্তবে তা অনুসরণ করেছে বলে লক্ষ্যণীয় নয়!মূলত তারা সে আদর্শ অনুসরণ করলে বুর্জোয়াদের স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াবে বলে তাদের পক্ষে তা সম্ভবও নয়!

তবে এর সমাধান কি?

সমাধান একটাই!যারা এই বুর্জোয়া তথা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মতাদর্শী,যারা জনগণ বান্ধব কাজ করার মতাদর্শী,যারা সম্পদের সমবন্টণের মতাদর্শী তাদেরকেই বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের চাইতেও পরে স্বাধীন হয়ে,আমাদের চাইতেও গরীব দেশ থেকেও যে মতাদর্শ অনুসরণ করে ভিয়েতনাম দক্ষিণ এশিয়া তথা বিশ্বের কাছে মিরাকল রূপে পরিণত হয়েছে সেই মতাদর্শ বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে হবে। এবং এই মতাদর্শের অনুসারী দলকেই এই সাধারণ জনগণকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

অন্যথায় নিয়ম না মেনে দালান নির্মাণ এবং তার বিপর্যয় ঘটে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যুর মতো দেশের শতো শতো এইসব মাত্রাতিরিক্ত সমস্যার সংকট থেকে উত্তরণ করা এদেশের পক্ষে কখনে সম্ভব হবে না।।

বিএম/তাইফুল/রাজীব…