মুম্বাইয়ের প্রথম জয়

স্পোর্টস ডেস্ক : চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সপ্তম ম্যাচে স্বাগতিক রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৬ রানে হারিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। হার দিয়ে শুরু করার পর আসরে এটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রথম জয়। অন্যদিকে দুই ম্যাচ খেলে দুটি ম্যাচেই পরাজয় বরণ করে নিতে হয়েছে বেঙ্গালুরুকে।

ম্যাচের শেষ বলে আম্পায়ারের চোখ এড়িয়ে যাওয়া নো বল অবশ্য উত্তাপ ছড়িয়েছে। আম্পায়ারের সঠিক সিদ্ধান্ত এলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত।

ম্যাচের শেষ বল নো করেছিলেন মালিঙ্গা যা অ্যাম্পিয়ারের চোখ এড়িয়ে যায়

বেঙ্গালুরুতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক আর অধিনায়ক রোহিত শর্মা মিলে দলকে এনে দেন দারুণ সূচনা। পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট ফেলতে পারেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। বিনা উইকেটে ৫২ রান সংগ্রহ করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

তাদের জুটি ভাঙেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্পিনার যুযবেন্দ্র চাহাল। তার বলে বোল্ড হন কুইন্টন ডি কক। সপ্তম ওভারে দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ফিরে যান কুইন্মাটন ডি কক। তার ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। সূর্যকুমার যাদবের সাথে ৩৩ রানের জুটি গড়েন রোহিত শর্মা। ২ রানের জন্য অর্ধশতক করতে পারেননি রোহিত শর্মা। ৩৩ বলে ৪৮ রান করে উমেশ যাবদের শিকার হন রোহিত শর্মা। তার ইনিংসে ছিলল ৮ চার আর ১ ছক্কা।

দলকে সঠিক পথেই রাখেন সুর্যকুমার যাদব আর যুবরাজ সিং। ঝড় তুলেছিলেন যুবরাজ সিং। যুবরাজ সিংয়ের ঝড় দীর্ঘায়িত হতে দেননি যুযবেন্দ্র চাহাল। ৩ ছক্কায় ১২ বলে ২৩ রান করেন যুবরাজ সিং। নিজের পরের ওভারে এসে সূর্যকুমার যাদবকেও সাজঘরের পথ দেখান যুযবেন্দ্র চাহাল। ঐ ওভারে দলীয় ১৪৫ রানের মাথায় কিরন পোলার্ডের উইকেটও তুলে নেন তিনি। দ্রুত তিনটি উইকেট নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে চাপে ফেলে দেন যুযবেন্দ্র চাহাল। প্রের ওভারে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে দেন উমেশ যাদব। ১ রান করে মিশেল ম্যাক্লেনাঘান বোল্ড হন মোহাম্মদ সিরাজের বলে।

৩ উইকেটে ১৪২ রান থেকে ১৪৭ রানে পৌঁছাতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের উইকেট দাঁড়ায়। শেষদিকে ঝড় তুলেন হার্দিক পান্ডিয়া। ২ টি চার আর ৩ টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১৪ বলে ৩২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন যুযবেন্দ্র চাহাল। দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ আর উমেশ যাদব।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মঈন আলি আর পার্থিব প্যাটেল মিলে উদ্বোধনী জুটিতে রান তুলেন ২৩। ৭ বলে ১৩ রান করে রোহিত শর্মার সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন মঈন আলি। বিরাট কোহলিকে সাথে নিয়ে আরো ৪০ রান যোগ করেন পার্থিভ প্যাটেল। ৪ চার আর ১ ছক্কায় সাজানো ২২ বলে ৩১ রান করে মায়াঙ্ক মারকান্দের বলে বোল্ড হন তিনি।

এরপর দলকে এগিয়ে নিয়ে যান বিরাট কোহলি আর এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে মায়াঙ্ক মারকান্দে আর ক্রুনাল পান্ডিয়া মিলে আটকে রাখেন দুজনকে। পাওয়ারপ্লের পরের চার ওভারে ২২ রান নিতে পারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এরপরেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন দুজন। মারকান্দের করা ইনিংসের একাদশতম ওভারে রান হয় ১৩।

অর্ধ-শতকের কাছে গিয়ে ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। এরপর দ্রুত আরও কিছু উইকেট হারালে বেঙ্গালুরুর জয় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শেষদিকে ডি ভিলিয়ার্সের ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস দলকে জয় এনে দিতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারানো বেঙ্গালুরুর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮১ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৮৭/৮ (২০ ওভার)
রোহিত ৪৮, হার্দিক ৩২*, যুবরাজ ২৩, ডি কক ২৩
চাহাল ৪/৩৮, উমেশ ২/২৬, সিরাজ ২/৩৮

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৮১/৫ (২০ ওভার)
ডি ভিলিয়ার্স ৭০*, কোহলি ৪৬, পার্থিব ৩১
বুমরাহ ২০/৩, মারাকান্দে ২৩/১

ফল: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ৬ রানে জয়ী।

বিএম/রনী/রাজীব