লোভের আগুনে মানুষ যেন না পুড়ে : তথ্যমন্ত্রী

বিএম ডেস্ক : সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা যারা ভবন নির্মাণ করি তাদের লোভের আগুনে যেন সাধারণ মানুষ পুড়ে না মরে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেটরস কাউন্সিল (ডব্লিউসিসি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “অনুসন্ধানে দেখা গেছে এফ আর টাওয়ার ‘নির্মাণ বিধি (বিল্ডিং কোড)’ অনুসরণ করে নির্মিত নয়। ওই ভবনে ১৮ তলা নির্মাণ করার অনুমোদন থাকলেও তৈরি করা হয়েছিল ২৩ তলা ভবন। অনুমোদনবিহীন এ ভবনে বিধি মোতাবেক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিলো না। অর্থাৎ মালিকের লোভের আগুনে পুড়ে হতাহত হয়েছে নিরীহ মানুষ। এর পুনারাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’

মন্ত্রী এসময় ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেটরস কাউন্সিল’র উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘নিজ দেশ, সংস্থা ও আত্মউন্নয়নে যোগাযোগের বিকল্প নেই। তৈরি পোষাক শিল্পে জিএসপি সুবিধা বাতিলের পরও বাংলাদেশ বিশ্ব প্রতিযোগিতায় এ শিল্পে তার প্রবৃদ্ধি অটুট রেখেছে, চীন আজ আমাদের প্রতিযোগী। এর মূল কারণ দু’টি- একটি আমাদের উৎপাদন দক্ষতা আর অপরটি আমাদের বায়িং হাউজদের যোগাযোগ দক্ষতা। অর্থাৎ শুধু উৎপাদন দক্ষতা থাকলেই হবে না, প্রয়োজন যোগাযোগেও দক্ষতা।’

গত দশ বছরে বাংলাদেশে বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, গত দশ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে আজ প্রায় দু’হাজার ডলার। উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত রাখা পৃথিবীর প্রথম পাঁচটি দেশের অন্যতম বাংলাদেশ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১শ’রও বেশি মানুষের বাস, আর মানুষপ্রতি জমির পরিমাণ দেশে সর্বনিন্ম, যে দেশ পঞ্চাশের দশক থেকেই খাদ্যঘাটতির দেশ, সেই বাংলাদেশ আজ খাদ্য রপ্তানির দেশ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের এই অভূতপূর্ব উন্নয়নে যোগাযোগকর্মীসহ সবার ভূমিকা রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশকে সমৃদ্ধতর করে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নখাতে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা আগে থেকে এখন অনেক সক্রিয়। কূটনৈতিক তৎপরতাও এখন অর্থনীতিমুখী।

ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেটরস কাউন্সিল-বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এএসএম আসাদুজ্জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন। এসময় অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান এবং পাবলিক রিলেশনস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিআরসিআই)’র চিফ মেন্টর ও চেয়ারম্যান এমেরিটাস এমবি জয়রাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া পিআরসিআই’র অপর প্রতিনিধিদের মধ্যে গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিএন কুমার, ন্যাশনাল ভাইস-প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বি কে সাহু এবং কোলকাতা চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ দাস অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন। সমাপনী বক্তব্যে সব অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানান ডব্লিউসিসি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব আবীর শ্রেষ্ঠ।

বিএম/রনী/রাজীব