লাইভ বিষয়ে কঠোর হচ্ছে ফেসবুক

বিএম ডেস্ক : ফের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেসবুক। কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না লাইভ সেবা। এজন্য বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। একইসঙ্গে চাপের মুখেও পড়েছে তারা। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক লাইভে কড়াকড়ি আরোপের।

মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লাইভ নীতিতে পরিবর্তন আনবে ফেসবুক। এক্ষেত্রে কারা লাইভ করতে পারবে তারও একটি নির্দেশনা আসতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে লাইভ করার আগে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের অনুমতিও লাগতে পারে।

ফেসবুক লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সবচেয়ে কুৎসিত দিকটি ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার সময় সবার নজরে আসে। এক শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারী গুলি করে ৫০ জনকে হত্যার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করে ফেসবুকে। ভিডিওটি ফেসবুক সরিয়ে ফেলার আগেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায়।

এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ঘটনার পর ৯০০ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জঙ্গি হামলা ফেসবুকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে লাইভে প্রচার করে এক সন্ত্রাসী। এরপরই ফেসবুকের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এসময় ফেসবুকের সমালোচনা করে বলা হয়, এরকম একটি ঘটনা ফেসবুকে কিভাবে লাইভের অনুমোদন পেল?

ফেসবুকের এমন সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ বলেন, জঙ্গি হামলার পর ওই ঘটনার প্রায় ১৫ লাখ ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের ভিডিও প্রতিরোধে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করবো।

তিনি আরও বলেন, ফেসবুকের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন গ্রাহকরা। আমরাও সেটা মনে করি। নিউজিল্যান্ড হামলার পর আমরা তিনটি পদক্ষেপ নিচ্ছি। এগুলো হলো- লাইভ নীতি কঠোর করা, হেট স্পিচ বা ঘৃণামূলক বক্তব্য চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া এবং নিউজিল্যান্ড কমিউনিটিকে সমর্থন দেয়া।

ফেসবুক ঘৃণিত বক্তব্য ছড়ানো ঠেকাতে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিএম/রনী/রাজীব