আদালত ভবনের মালখানায় চুরি : ১৫দিন পর মামলা, চার মামলার আলামত চুরি

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম আদালত ভবনে জেলা পুলিশের মালখানায় তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনার ১৫দিন পর মামলা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক বিজন কুমার বড়ুয়া।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মোহসিন। তিনি বলেন, গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনে জেলা পুলিশের মালখানায় চুরির ঘটনা ধরা পড়লেও আগের দিন ১৭ মার্চ সকালে চুরির ঘটনাটি ঘটেছে উল্লেখ করে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাতে দন্ডবিধির ৪৬১ ও ৩৮০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন বিজন বড়ুয়া।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, মালখানা থেকে জেলার চারটি থানার চার মামলার আলামত চুরির অভিযোগ মামলাটি দায়ের করা হয়। তাছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা হয় মালখানায় সিলগালা করে লাগানো তালা ভেঙ্গে চুরি শেষে চোরের দল নতুন তালা লাগিয়ে দিয়েছে। পরে ওই তালা ভেঙ্গে মালখানার ভেতরে থাকা পাঁচটি আলমারির তালাই খোলা দেখতে পাই পুলিশ। তাছাড়া পুরো মালখানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বেশকিছু নথিপত্র।

চুরি যাওয়া চার থানার চার মামলার আলামতের মধ্যে হাটহাজারী থানায় ২০০৫ সালের জুলাইয়ে দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং মামলার আলামত হিসেবে রাখা ১২টি হুন্ডির টোকেন।

ফটিকছড়ি থানায় ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং আইনের মামলার আলামত হিসেবে রাখা দুটি হুন্ডি’র টোকেন। একই থানায় ২০১৮ সালের এপ্রিলে দায়ের হওয়া মাদক আইনের মামলার আলামত (ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের কয়েকটি চেকবই চুরি)।

এবং পটিয়া থানায় ২০০৫ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলার আলামত হিসেবে রাখা দেড় হাজার টাকা সমমানের আফগানিস্থানের মুদ্রা, ইরানি ২৫ দিনার, ইয়েমেনের ৫০ রিয়েল, ২০ রিয়েল ও ২টি ১০ রিয়েল মুদ্রা চুরির কথা উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ সকালে মালখানায় চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে নথি চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে সেদিন খোয়া যাওয়া আলামতের সঠিক তথ্য নিরুপন করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে এ ঘটনায় মালখানার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়।

বিএম/রাজীব সেন প্রিন্স…