দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় মেইল : কারো সাথেই যুদ্ধ নয়, সবার সাথেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ। তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব হুমকি বা আক্রমণ প্রতিহত করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (৪ মার্চ) সকালে শেরে বাংলা নগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তাকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা সচিবসহ ভারপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী প্রধান। পরে এক বৈঠকে বিগত বছরগুলোতে সেনাবাহিনীর সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে। এসময় সেনা সদস্যদের প্রতি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দৃঢ় করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। সেনা সদস্যরা শান্তিরক্ষা মিশনে যাবার আগে তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদও দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩১ সালে মধ্যে উচ্চ মধ্যম এবং ২০৪১ সালে উচ্চ- আয়ের দেশে পরিণত হয়ে বাংলাদেশেকে মানব সম্পদ ও আর্থিক খাতে উদ্ভাবনী সংস্কার করতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এসব পরিদর্শনে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় নানা দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু করেন।

এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন ২৩ জানুয়ারি। পরিদর্শনের সময় বিগত সময়ে হাতে নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সাথে সংঘাতে যাবে না বাংলাদেশ, শান্তিপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।’ মিয়ানমারের সঙ্গে সংঘাতে নয়, রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণভাবে ফিরিয়ে দিয়ে সমাধান চায় বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু কোনও দেশ যদি আক্রমণ করতে আসে তার যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এজন্য আরও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।

স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যে মর্যাদা পেয়েছে তা ধরে রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে দূর করতে হবে। হত দারিদ্র্য বলে কোনও কিছু থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষের ন্যূনতম চাহিদা যাতে আমরা পূরণ করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি, এটা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। অন্তত ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন, সেটা কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে করে ফেলেছি, এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবুও আমাদেরকে এ অর্জনটা ধরে রাখতে হবে।’

বিএম/রনী/রাজীব