মৃত নারীর পেটে ১৫০০ পিস ইয়াবা!

বিএম ডেস্ক : রাজধানীতে এক নারীর লাশের পেটে ১৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।

ওই নারীর মরদেহটি দুই অজ্ঞাত লোক ঢাকার হৃদরোগ হাসপাতালে ফেলে গিয়েছিলো। পরে তার ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে চিকিৎসকরা ওই নারীর পেটে ইয়াবার সন্ধান পান। যেগুলো পেটের মধ্যে প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় ছিলো।

৩ এপ্রিল বুধবার দুপুরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ওই নারীর ময়নাতদন্ত করা হয়। তখনই তার পেটে ইয়াবা পাওয়া যায় বলে জানান কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান এ এম সেলিম রেজা।

আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই নারীর পরিচয় এখনো বের করতে পারেনি পুলিশ। যে দুই লোক তাকে নিয়ে এসেছিলো, তাদের সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ওই মৃত নারীর আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে রেখে পালিয়ে যাওয়া দুই লোককে সনাক্ত করতে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখছে শেরে বাংলানগর থানা পুলিশ।

নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা পেটের ভেতরে নিয়ে পাচারের কয়েকটি ঘটনা এর আগে একাধিকবার ধরা পড়লেও মৃত কারো পেটে ইয়াবা পাওয়ার ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম।

শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানে আলম মুন্সী বলেন, ১ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যার আগে দু’জন লোক এই নারীকে জাতীয় হৃদরোগ ইস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে ওই নারীকে মৃত বলে ঘোষণা দেওয়ার পর ওই দু’জন এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসার কথা বলে বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেনি। মঙ্গলবার সারাদিনও কেউ লাশ নিতে না আসায় পুলিশ সেটি গ্রহণ করে। এরপর ৩ এপ্রিল বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে।

ডা. সেলিম রেজা বলেন, ময়নাতদন্ত করার সময় তার পাকস্থলিতে বেশ কিছু প্যাকেট পাওয়া যায়, যার ভেতরে ইয়াবা ছিলো। তখন বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশ জনায়, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক লাশের পেটে ৫৭টি প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছেন, যার মধ্যে দুটি প্যাকেটে থাকা ইয়াবা গলে গিয়েছিলো। বাকি ৫৫টি প্যাকেটে ১৫শ ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

বিএম/রনী/রাজীব