সার্ভার ত্রুটি : মাস্টার্স প্রাইভেট প্রথম পর্বের ফাইনাল পরীক্ষা অনিশ্চিত সাতশ শিক্ষার্থীর

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ ও কমার্স কলেজের মাস্টার্স প্রাইভেট প্রথম পর্বের প্রায় সাতশ শিক্ষার্থীর ফাইনাল পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুসারে শিক্ষার্থীরা ভর্তি প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করলেও রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় এখন ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না এসব শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রেজিস্ট্রেশনের দাবিতে চট্টগ্রাম কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবস্থান নেয় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিত ছাত্র পরিষদের প্যাডে বিস্তারিত তুলে ধরে কলেজে অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।

স্বারকলিপিতে বলা হয়, তারা অনলাইনে ১০০ টাকা ফি দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিলিমিনারী টু মাস্টার্স (প্রাইভেট) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ১ম পর্বে ব্যাচের ২০১৮ সালে রেজিস্ট্রেশন পূরণ করে। আবেদনের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বিষয় নির্ধারণও করে দেন। পাশাপাশি আবেদন ফরমের কপি ও তাতে উল্লেখ থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গত বছরের ২ থেকে ৫ জুলাইয়ের নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এক হাজার একশ ৫০ টাকা সোনালি ব্যাংকে জমা করে রশিদও সংগ্রহ করে তারা।

জমা রশিদসহ কলেজে জমা করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে ভর্তি নিশ্চিত করেছেন বলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরতি একটি ম্যাসেজও পেয়েছেন এসব শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রদানের নোটিশ পেয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়ে জানতে পারেন তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আসেনি। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তখন এ বিষয়ে কোন সমাধান দিতে পারেনি বরং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

পরবর্তীতে এসব শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তাদের সার্ভারে ক্রটি হয়েছে। তবে সেখানেও কোন সমাধান না দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলেন।

এ অবস্থায় চাকুরির বয়সসীমা ও শিক্ষা জীবনের অনিশ্চয়তার কথা তারা শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে জানালে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরদের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার দীর্ঘ আট মাস পর কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা কাজের শিক্ষাজীবন নিয়ে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রামের হাজারো শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিত ছাত্র পরিষদের আহবায়ক মহিউদ্দিন হাজারী বলেন, সার্ভার ত্রুটিতে সৃষ্ট এ সমস্যাটি সমাধানের জন্য এর আগেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের গণ স্বাক্ষরসহ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নানের একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ইমেলের মাধ্যমে একই স্মারকলিপি কপিটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তার কোন সুরহা হয়নি।

এ বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলে চট্টগ্রামের প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিকস ও অনলাইন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ হয়। কিন্তু তাতেও কোন সমাধান না হওয়ায় এ তিন কলেজের মাস্টার্স প্রাইভেট প্রথম পর্বের প্রায় সাতশ শিক্ষার্থীর ফাইনাল পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

যেকোন মূল্যে তারা যেন এবছরই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা চেয়ে বৃহস্পতিবার ফের স্মারকলিপি দেন চট্টগ্রাম কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর।

মহিউদ্দিন হাজারী বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষ অনেক শিক্ষার্থীকে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যারা যারা রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাইনি তারা চাইলে টাকা ফেরত নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এটা তো সমাধান নয়, আমরা চাই কলেজ প্রশাসন হোক, কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হোক। যেভাবেই সম্ভব তারা যেন আমাদের এ বছরই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন।রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পাওয়াটাই আমাদের একমাত্র দাবি।

তিনি বলেন সার্ভার ত্রটির কারণে চট্টগ্রাম কলেজে ৩৫০ জন, মহসিন কলেজ ১৫০ জন এবং কমার্স কলেজ থেকে ১২০ জন পরীক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পাইনি। এদিকে
সার্ভার ত্রুটির কারণে রেজিস্ট্রশন না হওয়ায় ৩৫০ পরীক্ষার্থী এবারের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিএম/রাজীব সেন প্রিন্স….