চবিতে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও বিজয় গ্রুপের নেতা কর্মীদের সাথে পুলিশের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এতে পুলিশের দুই সদস্য, দুই পথচারী ও ছাত্রলীগ কর্মীসহ ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার সকাল ১০ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের গ্রেফতার ৬ নেতার মুক্তির দাবী ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং চবি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবী করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে চবি ছাত্রলীগের উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই চবির মূল ফটক বন্ধ করে দেন ছাত্রলীগের একাংশ। আটকে দেন বিশ্ববিদ্যালয়গামী সকল শাটল ট্রেন এবং শিক্ষক বাস। কার্যত সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ে।

সকাল সোয়া ১১ টার সময় চবির মুল ফটকে তালা লাগানোর বিষয়টি জানতে পেরে হাটহাজারী থানা পুলিশের একটি টিম চবিতে গিয়ে মুল ফটকের তালা খুলে দিতে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের অনুরোধ করে। কিন্তু তাতে তারা রাজি না হওয়ায় পুলিশ জোর পূর্বক তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ব্যাপক ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন বলেন, চবিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে। তিনি বলেন এ ঘটনায় তাদের দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তবে জেলা পু্লশি সুপার নুরে আলম মিনা জানিয়েছেন সংঘর্ষের ঘটনায় নয়, পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় তাদের অসাবধানতাবশত নিজেদের সঙ্গে থাকা বন্দুকের ট্রিগারে চাপ লেগে বের হওয়া গুলিতেই দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান পুলিশসুপার।

অন্যদিকে চবির (সিএফসি) ও বিজয় গ্রুপের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দাবী করেছেন তারা তাদের কয়েকজন নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির দাবীতে শান্তিপুর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের উপর পুলিশ অতর্কিত গুলি বর্ষণ করেছে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে চবির ছাত্রলীগ কর্মী এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের মুখলেছ, আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের সাদি মোরশেদ ও নৃ বিজ্ঞান বিভাগের একই সেশনের রমজানকে চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে আরো কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছেন বলে দাবী করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মো. আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত কয়েকজন ছাত্র শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ছাত্রলীগের একাংশ তাদের সাথে যোগ দিয়ে গত এক মাসে তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করলেও তারা কারো কথা না শুনে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে গত দুদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে। অবরোধ কর্মসূচির নামে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ফলে বাধ্য হয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত ২ এপ্রিল শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সিএফসি ও বিজয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পুলিশ উভয় পক্ষের ছয় জনকে পরে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। রবিবার তাদের মুক্তির দাবিতে দুই পক্ষই অবরোধ ডাকলে অচল হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস।

এদিকে চলতি মাসেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার সকালে শিগগির কমিটি ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এ মাসেই কমিটি দেওয়ার আশা রাখছি। এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। কমিটি হওয়ার পর আশা করছি- চবি প্রশাসন চাকসু নির্বাচন দেবে।