ফেনীর দগ্ধ সেই ছাত্রীকে দেখতে ঢামেকে শিক্ষামন্ত্রী

বিএম ডেস্ক : ফেনী জেলার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টা কালীন দগ্ধ চিকিৎসাধীন সেই ছাত্রীকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

রবিবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢামেকে যান শিক্ষামন্ত্রী। এসময় তিনি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বার্ন ইউনিটের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছাত্রীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী হাসপাতাল ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। তবে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার করা হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাকেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জেলা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ওই ছাত্রীর শরীরের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

এর আগে রোববার দুপুরে ওই ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ছাত্রীর চিকিৎসায় হাসপাতালে ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

দগ্ধ করার ঘটনার বর্ণনায় ওই ছাত্রীর ভাই জানায়, শনিবার (৬ এপ্রিল) আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিলো তার বোনের। সকালে মাদ্রাসায় গেলে একজন সেই ছাত্রীকে বলে যে, তার এক বান্ধবীকে কারা যেনো ছাদে মারধর করছে। এ কথা শুনে সে তখনই সেখানে ছুটে যায়। কিন্তু সেখানে বোরকা পরা চারজন ওই ছাত্রীকে ঘিরে ধরে এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। এই চাপ প্রত্যাখ্যান করায় সেই চারজন প্রথমে তাকে কিল-ঘুষি মারে। এক পর্যায়ে তারা সেই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে সেখানে ছুটে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল রাসেল ও মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোস্তফা। পরে তারা ছাত্রীর গায়ে কার্পেট জড়িয়ে আগুন নেভান।

বিএম/রনী/রাজীব