বঙ্গবন্ধু টানেলে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিড়ম্বনার অভিযোগ!

?

আনোয়ারা প্রতিনিধি :

উচ্ছেদ আতংকের মধ্যে দিবা-রাত্রি পার করছেন দক্ষিণ বন্দর, খলিফা পাড়া, নোওয়াজ তালুকদারের বাড়ীর প্রায় দুইশত পরিবার। তাদের অভিযোগ ঘরের আসবাবপত্র সরানোর সুযোগ না দিয়ে প্রশাসন উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গতকাল শনিবার দক্ষিণ বন্দর স্কুলে এলাকাবাসী ও টানেল কতৃপক্ষের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ক্ষতিপূরণের চেক না দেওয়া পর্যন্ত তারা কোন বাড়ীঘর উচ্ছেদ করবে না। এলাকাবাসীদের এমন আশ্বাস দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও দুপুর থেকে ফের শুরু করে উচ্ছেদ কার্যক্রম। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ শুরু হয়।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন,  বাংলাদেশের প্রথম তলদেশ সেতু বঙ্গবন্ধু টানেলে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারা জানিয়েছে টানেলে যতটুকু জায়গা অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ দিয়েছে তার চাইতেও বেশি জায়গা প্রশাসন উচ্ছেদ করছে। অনেকে কান্নাকাটি করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পায়ে ধরলেও কারো অভিযোগ কর্ণপাত না করে উচ্ছেদের নির্দেশ বহাল রাখেন।


রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে বন্দর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে পুলিশ, বিজিবি, সার্ভেয়ার। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় অনেকে বাপ-দাদার ভিটে মাটি রক্ষার জন্য বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের উপর প্রশাসন চড়াও হয়ে কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন।

এসময় দক্ষিণ বন্দরের ক্ষতিগ্রস্থ আবদুস সালাম, মহিউদ্দিন গং জানান- গতকাল তাদেরকে চেক বুঝিয়ে দিবে বলে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে তা না করে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।  খলিফা পাড়া ও নওয়াজ তালুকদারের বাড়ীর দিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে গেলে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে পড়ে কতৃপক্ষ। এসময়ে নারী পুরুষ নিজের ভিটে মাটি রক্ষা করার জন্য রাস্তায় শুয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ এই শেষ সম্বল্টুকু হারিয়ে কোথাও যাওয়ার আর্থিক অবস্থা তাদের নাই। কোথাও গিয়ে ভাড়া বাসাতে উঠবে সেই সাধ্যটুকুও নাই তাদের। সরকার চাইলেই তাদের একটা ব্যবস্থা করতে পারে আর তা না হলে রাস্তায় ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ নেই বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্থরা।

তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া রুমানা সুলতানা লিমা ও তার ছোট ভাই কাইয়ুম মার সাথে মাথায় লাকড়ীর বোঝা নিয়ে কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে, বলেন আমাদের বাড়ীঘর সব উচ্ছেদ করা হচ্ছে। গন্তব্য কোথায় তার কোন হিসেব নাই। ঘরবাড়ী হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম। মাথাগুজার ঠাঁইও নাই। শেষ সম্বলটুকু টানেলের গ্রাসে আজ আমরা পথে নামলাম।

মোহাম্মদ নাছির নামে অপর এক ক্ষতিগ্রস্থ বলেন, আমি মন্ত্রী সাহেব থেকে জায়গা অধিগ্রহণের চেক বুঝে পেয়েছি কিন্তু এখনো টাকা পাইনি। তিনি বলেন, আজ ২/৩ মাস ধরে আমি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি তার ক্ষতিপুরণের টাকার জন্য। পাইনি বরং বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমি মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো যাতে তাদের ক্ষতিপুরণের টাকাটা দ্রুত হাতে পেতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে টানেল পরিচালক অনুপম সাহার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আজ সকালে ক্ষতিগ্রস্থদের চেক দেওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ৫টা চেক তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন চেক নিতে গিয়েও অনেক হয়রানি করা হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জুবায়ের আহমেদ বলেন আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি ক্ষতিগ্রস্ত সকলকে তাদের চেক বুঝিয়ে দিতে। তবে বিভিন্ন জায়গায় মামলা থাকার কারণে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।