জনদুর্ভোগ লাঘবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সুজনের একাধিক প্রস্তাবনা

রেলওয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, অসঙ্গতি এবং অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত

চট্টগ্রাম মেইল : রেলওয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, অসঙ্গতি এবং অব্যবস্থাপনা সমূহ চিহ্নিত করে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদের সাথে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ ৮ এপ্রিল সোমবার সকাল ১১টায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিআরবি’ দফতরে বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। প্রাথমিক আলোচনায় জনদুর্ভোগ লাঘবে বেশ কিছু চিহ্নিত সমস্যা পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদের কাছে তুলে ধরেন। পরে এসব চিহ্নিত সমস্যা থেকে পরিত্রানের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্য তিনি পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপকের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয় বরাবর একাধিক প্রস্তাবনা রেখে তা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আসাম বাংলা রেলওয়ের সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রাম। স্বপ্নের রেল যাত্রা নিয়ে একসময় যাত্রী সাধারণের মধ্যে আগ্রহের সীমা পরিসীমা ছিলো না। কালের বিবর্তনে রেলের উন্নয়ন হলেও বর্তমান সময়ে কিছুটা মনযোগ হীনতা এবং রেলওয়ের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারীর স্বার্থপরতার কারণে রেলের সেই সুনাম ম্লান হতে চলেছে। তিনি বর্তমান সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের হাত ধরে রেলওয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের প্রধান খাতে পরিণত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেল শ্রমিক লীগ নেতা আলহাজ্ব শেখ লোকমান হোসেন, আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, অরুন চন্দ্র দাশ, গোকুল চক্রবর্ত্তী, রাজনীতিবিদ হাজী মো. ইলিয়াছ, এস.এম.আবু তাহের, নাগরিক উদ্দ্যেগের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী, আব্দুল আজিম, মো. এজাহারুল হক, ছালেহ আহমদ জঙ্গী, মোঃ সেলিম, পংকজ চৌধুরী কংকন, এএসএম জাহিদ হোসেন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, রেল শ্রমিক লীগ নেতা আশরাফ আলী, সাইফুল ইসলাম মামুন, মো. সোলায়মান সুমন, উত্তম কুমার আচার্য্য, মো. শাহজাহান, সমীর মহাজন লিটন, সাইফুল্লাহ আনসারী, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, সফি আলম বাদশা, স্বরূপ দত্ত রাজু, রকিবুল আলম সাজ্জী, সরওয়ার্দী এলিন, সাজ্জাদ হোসেন, তোফাজ্জল ওয়াসিম, মাহফুজ চৌধুরী, মনিরুল হক মুন্না, হাসান মুরাদ, সাইমুন হোসেন ভোর, রাজেশ সেন, আলী আজম চৌধুরী জুয়েল প্রমূখ।

পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনে উত্থাপিত প্রস্তাবনা সমূহকে বাস্তবসম্মত ও রেল এবং জাতীয় উন্নয়নের সহায়ক বলে মনে করেন। তিনি উল্লেখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উত্থাপিত প্রস্তাবনা সমূহ বিবেচনার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের আশ্বাস দেন।

রেলের যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে রেলপথ মন্ত্রী সুজন বরাবরে যে প্রস্তাবনাগুলো রাখা হয়েছে সেগুলো হলো, পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপে দক্ষতার সাথে রেলওয়ের ইঞ্জিন মেরামত এবং সংযোজন কাজ করা হলেও বিগত এরশাদ সরকারের আমলে সেই কারখানাটি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই কারখানাটি পূণরায় চালু করে পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপকে আগের অবয়বে ফিরিয়ে আনার জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত গণশৌচাগার, ওয়েটিং রুম, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পরিকল্পিত নিরাপদ ট্যাক্সি ষ্ট্যান্ড, যাত্রীদের বিশ্রামাগার, আগত যাত্রীদের জন্য পে-সেফটি বক্স রাখা, চট্টগ্রাম শহরের আকর্ষনীয় (বিনোদন, ধর্মীয় ও পরিচিত স্পটগুলোর) প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বলিত বুথ তৈরি, বিভিন্ন ট্রেনের অবস্থানসহ ডিসপ্লে বোর্ড প্রদর্শন করা, কোন স্টেশনে কোন ট্রেনের অবস্থান তা যাত্রী সাধারনকে সহজেই জানার ব্যবস্থা করা, আন্তঃনগর ট্রেনসমূহের যাত্রীসাধারণের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা, পুরানো বগি থেকে (উৎকট গন্ধ, তেলাপোকা এবং ছাড়পোকার) উপস্থিতি দুর করা, সিটবিহীন কোন যাত্রী না তোলা, ট্রেনের দুরের যাত্রীদের মান সম্মত খাবার নিশ্চিত করার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা রাখেন নাগরিক উদ্দ্যেগ।

দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-দোহাজারী এবং চট্টগ্রাম-নাজিরহাট শাখা লাইনগুলোকে উন্নত করে নতুন কোচ সংযোজন এবং দোহাজারী লাইনে অতিরিক্ত মালবাহী কোচ সংযোজন করে স্থানীয় কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে উৎসাহিত করা, কক্সবাজার থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং মিরসরাই চিকনি আস্তানা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লোকাল ট্রেন সার্ভিস চালু করার অনুরোধ রয়েছে নাগরিক উদ্দ্যেগের প্রস্তাবনায়।

আমদানী রপ্তানী বানিজ্যে রেল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখার কথা উল্লেখ করে সড়কে যানবাহনে যাত্রীর মাত্রাতিরিক্ত চাপ কমানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা পর্যন্ত কন্টেইনার পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত কোচ চালু করার আবেদন করা হয় প্রস্তাবনায়।

এনআইডি দিয়ে টিকেট ক্রয়ের নতুন নিয়ম চালু করার জন্য রেল মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নাগরিক উদ্দ্যেগের আহবায়ক খোরশেদ আলম সুজন প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন, যে এনআইডি দিয়ে টিকেট ক্রয় করা হচ্ছে সে এনআইডি দিয়ে সঠিক যাত্রী ভ্রমন করছে কিনা এবং রেলের অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এনআইডি দিয়ে সংগৃহিত টিকেট কালোবাজারিদের হাতে পড়ছে কিনা সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য রেলমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়া যাত্রী সাধারনের টিকেটকে সহজলভ্য করার জন্য বেসরকারী ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সরবরাহ করার জন্য তিনি প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে কিছু গভীর নলকুপ স্থাপন করার অনুরোধও করা হয় প্রস্তাবনায়।

নাগরিক উদ্দ্যেগের পক্ষ থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবনায় বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলা হয় তৎকালীন সময়ে আধিবাসিদের কাছ থেকে রেলের অধিগ্রহণকৃত বিশাল সম্পত্তি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট, বস্তি কিংবা বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করে রেখেছে।

এসব সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার করে রেলওয়ের উন্নয়নে ব্যবহার করা। নতুবা যাদের জায়গা জমি রেলওয়ে অধিগ্রহণ করেছিল পূণরায় অধিগ্রহনকৃত ব্যক্তিগণের নিকট অধিগ্রহণকৃত মূল্যে ফেরত দেওয়ার জন্য রেলমন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

বিএম/রাজীব সেন প্রিন্স…