দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রীকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিএম ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীর ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারি সচিব বিল্পব বড়ুয়া নুসরাতকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আসেন। তাকে লাইফ সাপোর্টে দেখার পর বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কথা বলেন।

গত শনিবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

সামান্তে লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটু আগে আমাকে ফোন করে বলেছেন নুসরাতকে যাতে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তিনি নুসরাতের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, নুসরাতের অবস্থা যদি সিঙ্গাপুরে পাঠানোর মতো হয়, তাহলে তাকে যেন দ্রুত পাঠানো হয়।’

‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাবার পর আমি সিঙ্গাপুরে নুসরাতের সকল কাগজপত্র পাঠিয়েছি। তারা রেসপন্স করলে আমরা নুসরাতকে দ্রুত পাঠিয়ে দিবো,’ বলেন সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত এতো বেশি শতাংশ বার্নের রোগী সিঙ্গাপুর নিতে চায় না। তারপরও আমরা সিঙ্গাপুরে কথা বলছি। আমরা চেষ্টা করছি।’

বিল্পব বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন নুসরাতের স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিতে। তাই আমি এখানে তাকে দেখতে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী নুসরাতকে সিঙ্গাপুর পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার সকল খরচ বহন করবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই অপরাধ করেছে, তাদের বিচারতো হবেই, সঙ্গে আমরা নুসরাতের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি। তাকে যেকোনো মূল্যে সুস্থ করার চেষ্টা আমরা করছি।’

উল্লেখ্য, নুসরাতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টায় ফেনীর সোনাগাজী থানায় অজ্ঞাত পরিচয় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন ওই ছাত্রীর ভাই।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় চার আসামি ও তাদের সঙ্গীরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছে।

এদিকে, মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- মোস্তফা কামাল, নুরুল আমিন, আশরাফ, সাইফুল, আরিফ, জসীম ও আলাউদ্দিন। তারা এখন পুলিশ হেফাজতে আছে। তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।