রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী জুম সংস্কৃতি মেলা

বিএম ডেস্ক : বৈসাবি (বৈসুক, সাংগ্রাইন, বিঝু) উপলক্ষে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জুম সংস্কৃতি মেলা। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল (জাক) এ মেলার আয়োজন করেছে।
রোববার বিকালে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী রঞ্জিত দেওয়ান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেশের বরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ। জাক সভাপতি শিশির চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনষ্টিটিউট পরিচালক রুনেল চাকমা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মনোজ বাহাদুর গুর্খা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মেলা উদযাপন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রনেল চাকমা।

জাক সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্য জাক সম্মাননা প্রদান করেছে, এবার কবি, গীতিকার লেখক ও গবেষক সুগত চাকমা (ননাধন), লেখক গবেষক সংগঠক ক্যশৈপ্রু খোকা এবং সংগঠন সংগীতকার অমর শান্তি চাকমাকে জাক সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

কাল ৮ এপ্রিল বিকালে কবিতা পাঠের আসর,সন্ধ্যায় বম ও চাকমা জনগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, এবং রন্ত কুমার তঞ্চঙ্গ্যার রচনা ও নির্দেশনায় থাকছে তঞ্চঙ্গ্যা নাটক ‘গিঙিলি’। পরদিন ৯ এপ্রিল ত্রিপুরা ও মারমা সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার পর থাকছে চাকমা নাটক ‘ফিরিই’। জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল এর নিজস্ব শিল্পিদের পরিবেশনায় প্রদর্শিত এই নাটকের রচনা ও নির্দেশনায় থাকছেন ঝিমিত ঝিমিত চাকমা ও ফয়েজ জহির।

এরপরই ৯ এপ্রিল শুরু হচ্ছে রাঙামাটি বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসুক, বিষু, বিহু, চাংক্রান-২০১৯ উদযাপন কমিটির তিন দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এদিন উদ্বোধনী ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দিয়ে শুরু হবে তিন দিনের অনুষ্ঠানমালা। ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে আনুষ্ঠানিক ফুল ভাসানো। এর আগে একই স্থানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইন্সটিটিউট আয়োজিত মেলা মঙ্গলবার শুরু হয়ে শেষ হয়েছে শুক্রবার। এ ছাড়া রাঙামাটি শহরের জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে চলছে মাসব্যাপী বিঝু-বৈশাখী মেলা। ২৪ মার্চ শুরু হয়েছে এ মেলা।

এদিকে বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন মহলের উদ্যোগে চলছে ঐতিহ্যবাহী জুম্ম সংস্কৃতির খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক মঞ্চায়ন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গানের অ্যালবাম তৈরির প্রস্তুতি। স্থানীয় সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠন হিলর প্রোডাকশনের উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে, ১০টি রোমান্টিক আধুনিক চাকমা গান নিয়ে ‘বড়গাঙানে হোক’ নামে একটি মিউজিক ভিডিও অ্যালবাম। অ্যালবামের ১০টি গানের কথা লিখে সুর করেছেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথাশিল্পী সুশীল প্রসাদ চাকমা।

বিএম/রনী/রাজীব