কাপ্তাইয়ে ১৫ এপ্রিল জল উৎসব

বিএম ডেস্ক : পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান পরিস্থিতির কারন দেখিয়ে এবার মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা মাসস প্রথমে মারমাদের সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই জলউৎসব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সেখান থেকে সরে এসেছে। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিংম্রং এলাকায় চিংম্রং জল উৎসব কমিটি এবং রাইখালীতে মাসস এর উদ্যেগে জল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৮ মার্চ মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা (মাসস) এর সাধারন সম্পাদক গত ২৮ মার্চ পাঠানো এক বিবৃতিতে পার্বত্য এলাকার পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় মাসসের জল উৎসব না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে স্থানীয় এমপির অনুরোধে ১৫ এপ্রিল সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাইখালীর নারায়নগিরি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জল উৎসব করবে, এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, ৩০৫ পদাতিক বিগ্রেডের রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার আলমগীর কবির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে মাসস এর আগে পোষ্টার ছাপানো হয়েছে চিংম্রং জল উৎসব কমিটির, এখানেও প্রধান অতিথি করা হয়েছে দীপংকর তালুকদারকে। একই উপজেলায় একই সম্প্রদায়ের দুটি জল উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় সাধারন মানুষ কোনটিতে যাবে এটি দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে গেছেন।

তবে চিংম্রং জল উৎসব কমিটির পক্ষে প্রকৌশলী থোয়াইচিং মারমা জানান, প্রতিবছর এলাকাবাসীর উদ্যেগে জল উৎসব হয়, তারই ধারাবাহিকতায় এবারো হচ্ছে। আমরা অনেক পোষ্টার ছাপিয়েছি, প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। মাসস প্রথমে বলছিলো জল উৎসব করবে না, এখন তারা করছে, তাতে সমস্যা নেই,এটা তরুন তরুনীদের উৎসব যার যেখানে ভালো লাগবে সে সেখানে যাবে। তবে একই উপজেলায় একটা হলে সবাই সম্মিলিতভাবে বেশী আনন্দ করতে পারত। তিনি আরো জানান, দাদার অনুমতি নিয়ে আমরা পোষ্টার ও ছাপিয়েছি, দাদা র‌্যালী উদ্বোধন করে রাইখালিতে যাবেন।

মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা (মাসস) এর সভাপতি অংশু প্রু চৌধুরী জানান, পার্বত্য এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটি জল উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পরবর্তী দাদা (দীপংকর তালুকদার এমপি) এবং প্রশাসনের অনুরোধে বিভিন্ন বাঁধা বিপত্তি এবং প্রতিকুল পরিস্থিতি সত্বেও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা রাইখালীতে জল উৎসব করব, এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রতি বছর মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন বৈসাবীকে সাংগ্রাই উৎসব হিসেবে পালন করে থাকে। পুরানো বছরের শেষদিন এবং নতুন বছরের প্রথমদিনই সাংগ্রাই উৎসবের দিন হিসেবে তাদের কাছে বেশ গুরুত্বপুর্ণ। পুরানো বছরের শেষ তিন দিনের প্রথমদিন নারী-পুরুষ সবাই মিলে বৌদ্ধ মুর্তিগুলোকে নদীর ঘাটে নিয়ে যায় এবং নদীর ঘাটে ভেলা তৈরি করে মুর্তিগুলোকে পানি বা দুধ পানিতে স্নান করায়। পরের দু’দিন মারমা জনপদে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। ওই দুইদিন পাড়ায় পাড়ায় চলে পানি খেলা বা জল উৎসব। একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরানো বছরের ব্যর্থতা, গ¬ানি ও দুঃখকে ধুয়ে-মুছে দেয়।