নুসরাত হত্যা মামলার আসামী নুর উদ্দিন ভালুকা থেকে গ্রেফতার

বিএম ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি নূর উদ্দিনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকার সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

নুসরাত হত্যা মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার মুক্তি দাবিতে আন্দোলনের নের্তৃত্ব দেন নূর উদ্দিন। এছাড়া নুসরাত হত্যার মামলার অন্যতম আসামি তিনি।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা মুক্তি পরিষদের নেতৃত্ব দেয় নূর উদ্দিন। স্থানীয়রা তার কাছ থেকে কেরোসিন তেলের বোতল ও ম্যাচ বাক্স উদ্ধারের দাবি করেছিলেন। নূর উদ্দিন বলেছিলো ‘কেরাসিন আর ম্যাচ ছাদ থেকে আনছি’।

গোল বৃত্তে নূর

এরআগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় মামলার অন্যতম আসামি সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, পৌর কাউন্সিলর মোকসুদ আলমকে।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মামলার আরেক আসামি জাবেদ হোসেনকে।

মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ৭ দিনের রিমান্ডে আছেন। এছাড়া ওই মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন এবং নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, নুসরাতের সহপাঠী ও মামলার প্রধান আসামী সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার ভাগনী উম্মে সুলতানা পপি ও আরেক মাদরাসা শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ ৫ দিনের রিমান্ডে আছে।

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখোনও পলাতক রয়েছেন- সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের ওই মাদ্রাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামিম, হাফেজ আবদুল কাদের।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। পরিবারের অভিযোগ, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ বিষয়ে করা মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিতে নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা চলাকালে ১০ এপ্রিল মৃত্যু হয়।

বিএম/রনী/রাজীব