আগামী শীতেই শুরু হবে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ

ক্রীড়া ডেস্ক : বহুল প্রতীক্ষা ও স্বপ্নের শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ চলতি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে,‘দ্যা বোট’ খ্যাত স্টেডিয়ামটির কাঠামো আগামী শীতেই দৃশ্যত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) এ নিয়ে বিসিবি কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তর পরিকল্পনা তুলে ধরেন বোর্ডের গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম।

তিনি বলেন, ‘এই মাসের মধ্যেই আমরা মাঠের স্থান নির্ধারণ নিয়ে কাজ করব। জায়গা ঠিক হলেই কাজ দ্রুত আগাবে। মাঠটি নিরাপদে রাখার জন্য একটা সাইট অফিস করা, সঙ্গে অন্যান্য যে পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো সামনের দিকে আগাবে।’

মাহবুবুল আনাম বলেন, ‘আমরা আশা করছি ২৮ থেকে ৩০ মাসের মধ্যেই পূর্বাচলে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হবে। দেশের তো বটেই, বিশ্বের ইতিহাসেই অন্যতম সুন্দর করে গড়া হবে নতুন এ স্টেডিয়ামটি।’

কমিটির প্রথম বৈঠক

বিসিবির সহসভাপতি মাহবুব আনামকে আহ্বায়ক করে বোর্ডের বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে তৈরি হয় পাঁচ সদস্যের কমিটি। কমিটিতে বাকি চার সদস্য হলেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, ফ্যাসিলিটিস কমিটির চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন এবং ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান শেখ সোহেল।

এর বাইরে আরও তিনজন কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সেখানে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তথা বুয়েটের একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং একজন আইনবিদকে রাখা হবে।

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে জায়গা করে দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছে এটি এমন একটা স্টেডিয়াম হবে যেটা শুধু এই অঞ্চলের নয়, পুরো বিশ্বের মধ্যে সুন্দর স্টেডিয়াম হবে। যেহেতু এটা গ্রিন ফিল্ড স্টেডিয়াম, সেহেতু এখানে আমাদের অনেককিছু করার সুযোগ রয়েছে।’

তবে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মিত হলে বিসিবি কার্যালয় সেখানে স্থানান্তরিত হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুল আনামের ভাষ্য, ‘ওটা পরে ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। এখন বলার উপায় নেই। আর এটা এমন একটা প্রতিষ্ঠান, মনে করি না এই মাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুরাবে। এটা একটা আন্তর্জাতিক মাঠ, সেভাবেই এটার রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।’

রেপ্লিকা

গত এপ্রিলে পূর্বাচলে নির্মিতব্য স্টেডিয়ামটির জন্য ৩৭.৪৯ একর জায়গা বুঝে পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্টেডিয়ামটির নাম শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম করার ঘোষণা দেয় বিসিবি। এছাড়া ক্রিকেট অঙ্গনে নির্মিতব্য স্টেডিয়ামটি পরিচিত পাচ্ছে ‘দ্যা বোট’ নামে।

সভায় জানানো হয়, আগামী শীতেই শুরু হবে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২১ সালের মধ্যেই দেশের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শেষ হবে। যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে বিসিবি। শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা হবে কমপক্ষে ৫০ হাজার।

এই স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজে সরাসরি যুক্ত থাকবে বিসিবি। অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামটিতে থাকবে পাঁচ তারকা হোটেল, সুইমিংপুল সহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সকল ধরনের সুবিধাদি। সুবিশাল ক্রিকেট কমপ্লেক্সের কারণে পূর্বাচল স্টেডিয়াম বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ও অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ক্রিকেট বোর্ডের।

বিএম/রনী/রাজীব