সীতাকুণ্ডে যাত্রীবেশে কার ছিনতাই, ড্রাইভারকে খুন, আটক ৩

কামরুল ইসলাম দুলু: সীতাকুণ্ড থেকে চমেক হাসপাতালে রোগীকে রক্ত দিবে বলে একটি কার ভাড়া করে নিয়ে নুরুল গনি শিমুল(৩০) নামের এক ড্রাইভারকে হত্যা করে লাশ সাগরে ফেলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী তিন যুববকে গণপিটুনী দেয়। এসময় একজন পালিয়ে যায় অপর দুই যুবককে পুলিশে সোপর্দ করে। একজন আগেই পালিয়ে যায়।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া এক আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার তিনজন হলো- নোয়াখালীর চাটখিল এলাকার মাহফুজুর রহমানের ছেলে মীর হোসেন নিশান (২১), সীতাকুণ্ডের রহমতনগর এলাকার মো. রফিকের ছেলে রবিউল হোসেন ইমন (২০), রাউজানের উরকিরচর এলাকার আবদুল সালামের ছেলে নেওয়াজ শরীফ (২৪)।

এদের মধ্যে মীর হোসেন নিশান বেসরকারি পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র।

ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় জড়িত পলাতক জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জসিম উদ্দিন সীতাকুণ্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।

নগরীর আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকায় প্রাইভেটকারের (গাড়ি নং চট্টমেট্রা গ ১২-৫০২৬) ভেতর থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাট্টলী শনি ঠাকুর বাড়ী এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিমুল

পুলিশের ধারণা যুবকটি ওই কারের চালক। তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ দুই যুবককে আটক করে। স্থানীয় সূত্রে জানাযায় শুক্রবার রাত ৯টায় সীতাকুণ্ড মাইক্রোবাস ষ্টেশন থেকে চমেক হাসপাতালে যাবে বলে ভাড়া নেই ৪ যুবক। সীতাকুণ্ড থেকে যাওয়ার পথে কোন এক স্থানে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা দ্রুত গতিতে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রাইভেটকার মহাসড়ক থেকে পশ্চিমে কাট্টলী রোড দিয়ে উত্তর কাট্টলী বেড়ি বাধেঁর দিকে যাওয়ার সময় শনি ঠাকুর বাড়ী (ঘোষবাড়ি মন্দির) এলাকায় ঈশান মহাজন রোড হয়ে ঘোষ বাড়ির কাছে পৌঁছলে প্রাইভেটকারের চাকা ড্রেনে আটকে যায়। গাড়ি পেছনের দিকে তুলতে গিয়ে সবিতা রাণী বিশ্বাস নামে এক নারীর বাড়ির সামনে গ্যাস লাইনের পাইপে ধাক্কা লাগে। এতে সবিতা রানীর সঙ্গে চারজনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা গাড়ি ফেলে পালাতে গেলে নিশান ও ইমনকে মারধর করে লোকজন।’

স্থানীয় এলাকাবাসী সহযোগিতার জন্য দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে কারের পিছনের সীটের নীচে এক যুবকের লাশ পড়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে কারের ৩ আরোহীর কাছে জানতে চাইলে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকলে এলাাবাসীর সন্দেহ হয়। তারা গাড়ী ছিনতাইকারী সন্দেহে ৩ যুবককে ধরে গণপিটুনী দেয়। পরে পুলিশে সোপর্দ করে।

এলাকার জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, চালককে হত্যা করে ৩ যুবক কারটি ছিনতাই করে চালকের লাশ সাগরে ফেলে দিতে এ পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা এলাকার লোকজনের কাছে স্বীকার করেছে।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ড্রাইভার নুরুল গনি শিমুল সীতাকুণ্ডের পৌরসদরস্থ পূর্ব আমিরাবাদ গ্রামের নুরল আলমের পুত্র।

ওসি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে গাড়ির ভেতর সিটে বসা অবস্থায় নুরুল গণির মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। তখন নিশান ও ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তারা হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করে। এরপর নগরের চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে নেওয়াজ শরীফকে গ্রেফতার করা হয়।’

ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় জড়িত পলাতক জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জসিম উদ্দিন সীতাকুণ্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।

সীতাকুণ্ড মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি বাবলু বলেন, ড্রাইভার নুরুল গনিকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার তীব্র জানাই এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করছি।

বিএম/রনী/রাজীব