আজ পহেলা বৈশাখ,স্বাগতম বাংলা নববর্ষ ১৪২৬

মোরশেদ রনী : রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। শুভ নববর্ষ ১৪২৬ । চৈত্রের রুদ্র দিনের পরিসমাপ্তি শেষে ধরাতলে হেসে উঠবে নব আলোর রবি। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…।’ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও গর্বিত ঐতিহ্যের রূপময় ছটায় বৈশাখকে এভাবেই ধরাতলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবির কিরণে হাসি ছড়িয়ে পুরনো বছরের সব গ্লানি, অপ্রাপ্তি, বেদনা ভুলে বছরের প্রথমদিন এভাবেই নব আনন্দে জাগবে গোটা জাতি। বাঙালির জীবনের আনন্দের এই দিনে নব আলোর সূর্যশিখা কেবল প্রকৃতিকে নয়, নবরূপে সাজিয়ে দেবে প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়কোণটিকেও।

দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, মাসের পর মাস গড়িয়ে আসে পহেলা বৈশাখ। চৈত্র অবসানে বর্ষ হল শেষ। এল নতুন বছর। নববর্ষ। পৃথিবীর সর্বত্রই নববর্ষ একটি ‘ট্র্যাডিশন’ বা প্রচলিত সংস্কৃতিধারা। আদিকাল থেকেই যে কোনো বছরের প্রথম দিনই ‘নববর্ষ’ নামে পরিচিত হয়ে আসছে। ‘পুরাতন বছরের জীর্ণ ক্লান্ত রাত্রি’-র অন্তিম প্রহর হল ঘোষিত। তিমির রাত্রি ভেদ করে পূর্বদিগন্তে উদিত হল নতুন দিনের জ্যোতির্ময় সূর্য। প্রকৃতির নিসর্গ মঞ্চে ধ্বনিত হল নব-জীবনের সঙ্গীত। আকাশ সাজল অপরূপ সাজে। পত্রে পত্রে তার পুলক-শিহরণ। গাছে গাছে তার আনন্দ-উচ্ছ্বাস। পাখির কণ্ঠে কণ্ঠে নব প্রভাতের বন্দনা-গীতি। দিকে দিকে মানুষের বর্ষ-বরণের উৎসব-আয়োজন। অভিনন্দন-শঙ্খধ্বনিতে হয় নতুনের অভিষেক। রাত্রির তপস্যা শেষে এই শুভদিনের উদার অভ্যুদয়ে মানুষের হৃদয়ে-উৎসারিত কলোচ্ছ্বাসে ভরে গেল পৃথিবী। নতুন দিনের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা, প্রার্থনা দুঃখ জয়ের।

নববর্ষের দিনটি প্রতিদিনের মতোই একটি সাধারণ দিন মাত্র। প্রতিদিনের মতো এ দিনটিও যথানিয়মেই উদয়-দিগন্তে ভেসে ওঠে। আলোক-প্লাবনে পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়। পাখি গান গায়। গাছে গাছে শিহরণ জাগে। কিন্তু তবু ও দিনটি অন্য দিনগুলোর চেয়ে স্বতন্ত্র, বিশিষ্ট। প্রাত্যহিক তুচ্ছতার ঊর্ধ্বচারী। বর্ষ-প্রদক্ষিণের পথে এ দিনটি বিশেষ তাৎপর্যে মহিমা-ভাস্বর। এ দিনটি আমাদের কাছে মুক্তির বার্তা বয়ে আনে। মুক্তি প্রাত্যহিকতার জীর্ণ জীবন থেকে, মুক্তি প্রতিদিনের ক্ষুদ্র, আত্মসর্বস্ব জীবনের গণ্ডি থেকে। মুক্তি চিত্তের দীনতা ও হতাশা থেকে। প্রতিদিনের জীবনে আমরা লাভ করি এক মহাজীবনের উদার সান্নিধ্য। বর্ষারম্ভের পুণ্য-প্রভাতে আমরা মহৎ। এ দিন আমাদের কাছে পরম আশ্বাসের, পরম প্রার্থনার। এই পুণ্য দিনে আমরা লাভ করি এক মহাজীবনের উদার সান্নিধ্য। বর্ষারম্ভের পুণ্য-মুহূর্তে নবোদিত সূর্যের আলোকের ঝরণা ধারায় আমরা শুচিস্নাত হয়ে অনুভব করি পরম প্রেমময়ের আনন্দ-স্পর্শ। আমাদের স্বার্থপরতা, ক্ষুদ্রতার নির্মোক ভেঙে আমরা সেদিন মিলনের উদার উৎসব-প্রাঙ্গণে এসে সম্মিলিত হই। আমাদের হৃদয় আজ কোন্ অসীমের রাজ্যে, কোন্ অনির্বচনীয় আনন্দের অভিমুখে ধেয়ে চলেছে। নববর্ষের পুণ্য-প্রভাতে আমাদের নিজেদের মধ্যে সর্বজয়ী মানবশক্তি উপলব্ধি করার দিন। মানুষের জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে গেল সুখ-দুঃখে গড়া একটি বছর। কিন্তু তার জন্য শোক নয়- যা এলো, যা অনাগত সম্ভাবনায় সমুজ্জ্বল, তাকে আবাহন করার দিন আজ।

হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় রোববার বাঙালি হারিয়ে যাবে বাঁধভাঙা উল্লাসে। উৎসব, আনন্দ আর আমোদ ,উচ্ছ্বাসে ভরে যাবে বাংলার মাঠ-ঘাট-প্রান্তর। আগামীকারের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সব জরা গ্লানিকে মুছে ফেলে বাঙালী গেয়ে উঠবে নতুন দিনের গান। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বজনীন উৎসবে নববর্ষ উদযাপনে একসঙ্গে গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। গ্রাম থেকে শহর, গলি থেকে রাজপথ, আঁকা-বাঁকা মেঠো পথ থেকে অফুরান প্রকৃতি সবখানেই দোল দেবে বৈশাখী উন্মাদনা। মুড়ি মুড়কি, মণ্ডা মিঠাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে নাচে-গানে, ঢাকে-ঢোলে, শোভাযাত্রায় পুরো জাতি বরণ করবে নতুন বছরকে। কেউ কেউ সকালবেলা থেকেই মেতে উঠবে নগর সংস্কৃতির দান পান্তা-ইলিশ খাওয়ার উৎসবে। খোলা হবে বছরের নুতন হিসেব নিয়ে হালখাতা। চলবে মিষ্টিমুখের আসর। দিনটিতে দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

প্রেক্ষাপট
ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটগণ হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করতেন। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদের খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হতো। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মোগল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে, তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌরসন এবং আরবি হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম চালু করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময় (৫ নভেম্বর ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। আকবরের সময়কাল থেকেই পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেকে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। এর পরদিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখে ভূমির মালিকেরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়, যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। বিক্রেতারা ক্রেতাদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এ প্রথাটি এখনো অনেকাংশে প্রচলিত আছে, বিশেষত স্বর্ণের দোকানে।

বাঙালি জীবনে কল্যাণ ও নবযাত্রার অনবদ্য প্রতীক হলো বাংলা নববর্ষ। যাকে ঘিরে বাংলার ঘরে ঘরে দেখা দেয় আনন্দ উৎসবের মহাযজ্ঞ। রাজধানীর চারুকলায় মহাব্যস্ত সময় পার করছেন বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজক চারুশিল্পীরা। এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি কাজের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

এবার উৎসবের মূল অকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থাকছে মহিষ, পাখি ও ছানা, হাতি, মাছ ও বক, জাল ও জেলে, টেপা পুতুল, মা ও শিশু এবং গরুর আটটি শিল্পকাঠামো। আরও থাকছে পেইন্টিং, মাটির তৈরি সরা, মুখোশ, রাজা-রানীর মুখোশ, সূর্য, ভট, লকেট ইত্যাদি। মানুষের মঙ্গলযাত্রার এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।

রবিঠাকুরের কবিতার পঙক্তি থেকে নেয়া এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো- ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। বর্ণাঢ্য এ কর্মযজ্ঞে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিল্পী কাজ করছেন। একইসঙ্গে চলছে এসব অনুসঙ্গ বিক্রির পর্ব। নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধসহ সবশ্রেণির মানুষ দল বেঁধে ভিড় করে বৈশাখের এই স্মারকগুলো কিনছেন।

নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পুরো জাতি যেন চিরায়ত বাঙালিয়ানাকে ধারণ করে পথচলার দিকনির্দেশকের প্রত্যয় খোঁজে প্রাণের এই উৎসবে। ঢাকার মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বাংলা নববর্ষ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। বাংলা নববর্ষ বরণের পথ-পরিক্রমণ বাঙালি চলয়মান সংস্কৃতির প্রবাহমানতায় পুষ্ট হয়ে এক অনন্য জীবন জাগরণের সর্বজনীন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শুরু থেকেই বৈশাখের আয়োজনকে বিশেষভাবে লালন করছে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা। বাংলা নববর্ষ দিন-দিন পরিসর বৃদ্ধি করে আরো বৃহৎ ও বর্ণিলতায় রঙ ছড়াচ্ছে।

প্রতিবারের মত এবারও পহেলা বৈশাখকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী-কলাকুশলীদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণেই বাস্তবায়িত হবে পহেলা বৈশাখের বর্ণিল আয়োজন।

বরাবরের মত এবারও নববর্ষের মূল আয়োজনটি হবে রাজধানীর চারুকলা থেকে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একইভাবে এদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে থাকছে বর্ষবরণের প্রভাতী আয়োজন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি চ্যানেলসমূহ এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার ছাড়াও বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। পত্র-পত্রিকাগুলোতেও থাকবে বর্ণাঢ্য কলেবরের আয়োজন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনে বরণ করবে পহেলা বৈশাখ।

২০১৬ সালে ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হলো ‘শুভ নববর্ষ’।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল জেলা, উপজেলা এমনকী ইউনিয়ন পর্যায়ে বৈশাখী র‌্যালীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইভাবে কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসনগুলো। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করবে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। শিশু একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান আয়োজন করবে নববর্ষ মেলা, আলোচনাসভা, প্রদর্শনী, কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা অনুষ্ঠানমালা।

ছায়ানটের বর্ষবরণ আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এদিন ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতায় বর্ষবরণ করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এই আয়োজনেও দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের আবেশ ছড়িয়ে বাউলগান, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলসহ মাটিরগান প্রধান্য পাবে বলে জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ।

এদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অভিভাবক সংগঠন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ ৮টি জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঢাকায় সন্ধ্যা ৬টা এবং অন্যত্র বিকেল ৫টার মধ্যে সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা সমাপ্ত করণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কর্তৃক প্রেরিত জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। যৌথ এ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হওয়ায়-বাঙালির সব চাইতে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসবকে চিরাচরিত পন্থায় উদযাপিত হতে দেয়া উচিত।’

এতে আরো বলা হয়, ‘সরকার একদিকে বাংলা নববর্ষ আয়োজনে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করছে, অপরদিকে প্রাণের উৎসবকে সময়ের শেকলে আবদ্ধ করছে, যা বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা অবিলম্বে দেশব্যাপী অনুষ্ঠান ও মেলা আয়োজনের সময়সীমা অন্ততঃপক্ষে রাত ৮টা পর্যন্ত বর্ধিতকরণের দাবি জানাই।’

বিবৃতিদাতা সংগঠনগুলো হচ্ছে- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা এবং বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ।

এদিকে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম নজরুল স্কয়ারে (ডিসি হিল পার্ক) আগামী ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ২০১৯ (৩০ চৈত্র ১৪২৫ এবং ১ বৈশাখ ১৪২৬) দুই দিনব্যাপী বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসব, সবার যোগে জয়যুক্ত হোক’ এই শিরোনামে বিগত ৪০ বছরের মত এবারও দু’দিনের কর্মসূচীতে থাকবে চিরায়ত বাংলা গান, সংগঠন সমূহের পরিবেশনায় সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠান।

এ ছাড়াও পরিবেশনায় অংশ নিবে- সুন্দরম শিল্পী গোষ্ঠী, উপমা সাংস্কৃতিক অঙ্গন, ফতেয়াবাদ সঙ্গীত নিকেতন, ইমন কল্যাণ সঙ্গীত বিদ্যাপীঠ, সৃজনছন্দ সাংস্কৃতিক সংঘ, সেবঘর সাংস্কৃতিক দল, চট্টগ্রাম মডেল কালচার একাডেমি, মিতালী সঙ্গীত বিদ্যালয়, ধ্রুপদ সঙ্গীত নিকেতন, নৃত্যনন্দন একাডেমি, নৃত্যরঙ একাডেমি, মনোরমা নৃত্যাঙ্গন, শ্যামা নৃত্যাঙ্গন, নিক্কন একাডেমি, নৃত্যরূপ একাডেমি।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকায় বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করবে। ঐ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব স্থানসমূহে লাখো মানুষের সমাগম হবে। আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পহেলা বৈশাখে নারী উত্যক্তকারীদের প্রতিরোধ করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ একটি টিম। ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে এই টিমের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে লক্ষ্য রাখবে যাতে কোনো বখাটে নারীদের উত্যক্ত করতে না পারে।

এ টিমের সদস্যরা ইউনিফর্মে এবং সাদা পোষাকে বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বরত থাকবে। ইভটিজিং ঘটনার আঁচ পেলেই তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কোনো নারী উত্যক্তকারীদের শিকার হলে নিকটস্থ পুলিশ অথবা পুলিশ সাব-কন্ট্রোলরুম (রমনা পার্ক): (১০০)-২৩২৪৮ (ডিএমপি), ০২-৯৬১১০০৫ (অনুষ্ঠানকালীন), পুলিশ সাব-কন্ট্রোলরুম (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান): (১০০)-২৩২৪৯ (ডিএমপি), ০২-৬৬২০৩৯ (অনুষ্ঠানকালীন) অথবা জাতীয় জরুরী কল সেন্টার ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

রোববার ১৪২৬ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল । উৎসব মুখর এ দিন সকালে আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কেটে যাবে, অনুভূত হবে ভ্যাপসা গরম। আর বিকেলের দিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, নববর্ষের দিন (১৪ এপ্রিল, রোববার) দেশের বেশিরভাগ জায়গায় প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দুপুরে পর অনেক জায়গায় বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাংশে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া এবং ঢাকাতেও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

নববর্ষের চেতনা হচ্ছে আনন্দলোকে সমবেত হয়ে সকলের আনন্দ যুক্ত হওয়া। নববর্ষ তাই আমাদের জাতীয় জীবনে ও সংস্কৃতিতে এক আনন্দঘন শুভদিন। এ দিন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নে নতুন দিনের সূর্যকে, চারপাশের প্রকৃতিকে, চেনা-অচেনা সব মানুষকে মনে হয় একান্ত আপনার। নতুন আশা, নতুন উদ্দীপনা, নতুন প্রেরণার পাশাপাশি নববর্ষ আনে নতুন সাধনার প্রতিশ্রুতি। সকল মানুষের শুভ কামনার মধ্য দিয়ে মানব স্বীকৃতিই তার মূল কথা।

বিএম/রনী/রাজীব