তৃতীয় দফায় খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের ৯৬ ঘন্টার ধর্মঘট শুরু

বিএম ডেস্ক : বকেয়া মজুরি প্রদান ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তৃতীয় দফায় খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলে শ্রমিকদের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা করে রাজপথ-রেলপথে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ৬ টা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ ও সকাল ৮টা থেকে রাজপথ-রেলপথে অবরোধ করে এ ধর্মঘট শুরু করে আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকরা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ও পাটকল শ্রমিক লীগের উদ্যোগে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এর আগেও দু’দফা পাটকলের উৎপাদন বন্ধ এবং সড়ক-রেলপথে অবরোধ করে আন্দোলন করেছিলো শ্রমিকরা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, মজুরি ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকদের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি মানা না পর্যন্ত আমরা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, আজ সোমবার থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত পাটকলে ৯৬ ঘণ্টা পাটকল ধর্মঘট এবং এ সময় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে । এরপর বিরতি দিয়ে আগামী ২৫ এপ্রিল গেটসভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ৭২ ঘণ্টার পাটকল ধর্মঘটসহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ভোর ৬ টা থেকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। একই সঙ্গে নগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় খুলনা-যশোর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে দুর্ভোগে পরেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

রেললাইনের পাশে শ্রমিকদের অবস্থান

শ্রমিকরা খালিশপুর ও আটরা শিল্পাঞ্চলে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন। এর ফলে খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এর আগে গত ২ থেকে ৪ এপ্রিল পাটকল শ্রমিক লীগ এবং সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদ যৌথভাবে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ও রাজপথ-রেলপথ অবরোধ পালন করে। এরপর শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে গত ৬-৭ এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের আলোচনা হয়। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবার ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেন পাটকল শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত খালিশপুর, দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ন, আলীম, জেজেআই ও কার্পেটিং মোট ৯টি জুট মিলের প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তাদের ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত মজুরি প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে মিলগুলোতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উৎপাদিত পাটজাত পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিজেএমসির কর্তৃপক্ষ জানায়, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের ৪২ কোটি টাকার মজুরি এবং কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আরো ১০ কোটি টাকার বেতন বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

বিএম/রনী/রাজীব