খালেদার প্যারোলে মুক্তির খবর ভিত্তিহীন : ফখরুল

বিএম ডেস্ক : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই বিষয়ে খালেদা জিয়া কোনো সিদ্ধান্ত দেন নি।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) একাংশের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। গত কয়েক দিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা হচ্ছে। আজকে একটি ইংরেজি দৈনিক প্যারোলের দিন, তারিখ দিয়ে সংবাদও ছেপেছে। আমি বলছি- এটি ভিত্তিহীন।’

দেশের গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ চাপে আছেন। চাপে পরে শাসক গোষ্ঠীর ফরমায়েশে একটি শ্রেণি গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকর্মীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের পরামর্শ দেন। গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ চাপে আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই বিষয়ে ফখরুল বলেন, শাসক গোষ্ঠীর ফরমায়েশে একটি শ্রেণি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে করে অনেক জনপ্রিয় লোক টকশোতে আসছেন না। অনেককে আসতে দেয়া হচ্ছে না। সত্য কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

নির্বাচনের পর চাপের মুখে অনেক সাংবাদিকদের চাকরীচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তাদের অনেকেরই চাকরি চলে গেছে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের একটি শ্রেণি ভালো আছে, তবে বেশিরভাগেরই চাকরি নেই।

এদিকে দেশে ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ বৃদ্ধির পিছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক কারণ জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব। এছাড়া নুসরাত হত্যাকাণ্ড ও সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনার নিন্দাও জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকায় এবং রাজনৈতিক কারণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফেনীতে যেটি ঘটেছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকলকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এটি বিএনপির একক লড়াই নয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার জন্য যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমনি এখন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন হয়েছে। সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখেই আমাদের এগোতে হবে।

ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি আবদুল কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি আবদুস শহীদ ও আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।

বিএম/রনী/রাজীব